ভারতবর্ষের ইউরোপীয়দের বাণিজ্য বিস্তারে শ্রেষ্ঠত্বের বিজয় হয়েছিল— উক্তিটি যথার্থ ।
১৪৯৮ সালের ২৭ মে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো- দা-গামা ভারতের পশ্চিম উপকূলম্ব কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন । তখন ভারতীয় উপমহাদেশে লোদী বংশের সিকান্দার লোদীর রাজত্বকাল ছিল। ভাস্কো-দা-গামার পথ ধরেই ইউরোপীয় জাতিগুলো সমুদ্রপথে ভারতবর্ষে আসতে থাকে।
ভাস্কো-দা-গামার জলপথ আবিষ্কারের পর পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজ বণিকগণ ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আসতে শুরু করে। জলপথ আবিষ্কারের সাথে সাথে ইউরোপীয় অন্যান্য ৰণিক সম্প্রদায়ও বিশেষত ইংরেজ, ওলন্দাজ, দিনেমার, ফরাসি প্রভৃতি দেশের বণিকগোষ্ঠীও ভারতবর্ষে ব্যবসায়িক কার্য সাধনে আসতে থাকে। ভারতবর্ষে যেসব জাতি প্রবেশ করে তাদের মধ্যে ইংরেজ ঔপনিবেশিক জাতি ছিল সবচেয়ে বেশি সুসংগঠিত। তারা প্রথমে ব্যবসায় বাণিজ্য করার জন্য ভারতবর্ষে আগমন করে। কিন্তু বাণিজ্যের পাশাপাশি তারা এ উপমহাদেশে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল ব্রিটেনের কিছু বণিক সম্প্রদায়ের। ফলে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায় বাণিজ্য করা এবং এ কোম্পানি একটি ডাইরেক্টর সভা কর্তৃক পরিচালিত হতো। অপরদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশের কোম্পানিগুলো ছিল সরকারি এবং এ কোম্পানিগুলো খুব বেশি সুসংগঠিত ছিল না। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আর্থিকভারে ইউরোপের অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় অনেক শক্তিশালী ছিল। ফলে তারা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে আধিপত্য বিস্তারে অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে ছিল। যার হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণকে প্রায় ২০০ বছর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের জালে আবদ্ধ থাকতে হয় ।
পরিশেষে বলা যায়, ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের বাণিজ্য বিস্তারে শ্রেষ্ঠত্বের বিজয় হয়েছিল।