উদ্দীপকে পলাশীর যুদ্ধের ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৭৫৬ সালে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার মসনদে আরোহণ করেন। সিংহাসনে বসেই তিনি খালা ঘসেটি বেগম এবং খালাতো ভাই পুর্নিয়ার শাসনকর্তা শওকত জং-এর ষড়যন্ত্রের শিকার হন । তারা নবাবকে হটাতে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। নবাবের সহচরদের মধ্যে রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, ইয়ার লতিফ, উমিচাঁদ, মানিক চাঁদ ও প্রধান সেনাপতি মীরজাফর এ ষড়যন্ত্রে যোগ দেন । ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ এই ষড়যন্ত্রে সফল হন। মীরজাফর নবাবির বিনিময়ে ইংরেজদেরকে পৌনে দুই কোটি টাকা পুরস্কার দিতে স্বীকৃত হন। এ ব্যাপারে ক্লাইভ, মীরজাফর, জগৎশেঠ ও উমিচাদের মধ্যে গোপন চুক্তি হয়। রবার্ট ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে সন্ধি ভঙ্গের মিথ্যা অভিযোগ এনে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নবাবের বাহিনী ও ইংরেজ বাহিনী ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী প্রান্তরে মুখোমুখি হয়। তবে প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এ যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটে। মীরজাফর যুদ্ধক্ষেত্রে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর তারই পরামর্শে নৰাৰ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। যুদ্ধবিরতির সময় ইংরেজরা অপ্রস্তুত নবাববাহিনীকে আকস্মিক আক্রমণ করে। ফলে সিরাজ- উদ-দৌলার পতন ঘটে।
উদ্দীপকে মিসেস তপতীর বর্ণিত যুদ্ধটি পলাশীর যুদ্ধ। কেননা উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের মতোই পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ- দৌলার সভাসদগণ ইংরেজদের সাথে মিলে তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়ে যায় ।