উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা হচ্ছে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা। নিম্নে তা পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো :নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর ইংরেজরা বাংলায় দ্বৈত শাসনের প্রচলন করে। এই শাসন পদ্ধতিতে বিচার ও প্রশাসনিক শাসনভার নবাবের হাতে থাকলেও রাজস্ব সংগ্রহ ও দেশরক্ষার দায়িত্ব কোম্পানির হাতে থাকে। এর ফলে ইংরেজরা দায়িত্বহীনভাবে ক্ষমতা পেয়ে যায়। তবে সেই সাথে রবার্ট ক্লাইভের আরো বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত দেশীয় শাসকদের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা আর দ্বিতীয়ত কোম্পানির শাসনের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা। এই ধরনের শাসনব্যবস্থার ফলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির পাশাপাশি শোষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যার ফলে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। উদ্দীপকেও দেখা যায়, খ অঞ্চল দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু করে যেখানে খ অঞ্চলের হাতে কর আদায়ের ক্ষমতা থাকে। এতে করে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে এলাকায় চরম দুর্ভিক্ষের প্রাদুর্ভাব হয় । তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা হচ্ছে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা।