পাঠ্যবইয়ের উক্ত যুদ্ধ তথা পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭৫৭ সালে সংঘটিত পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর হাতে নবাব সিরাজ- উদ-দৌলার পরাজয় উপমহাদেশে ইংরেজ আধিপত্যের ভিত্তি রচনা করে। পলাশী যুদ্ধের পরিণতিতে ইংরেজ বণিকের মানদণ্ড শাসকের রাজদণ্ডে উন্নীত হয়।
পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং ভারতে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের দ্বার খুলে যায়। এ যুদ্ধের ফলে বাংলার রাষ্ট্রক্ষমতা বিভাজিত করে দ্বৈতশাসনের উদ্ভব ঘটে। মীরজাফরকে মসনদে বসানো হলেও প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিল ইংরেজরা। পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রার্থী হতে অনুগ্রহ বিতরণকারী শক্তিতে পরিণত হয়। এ যুদ্ধের ফলে সমৃদ্ধ বাংলার একচেটিয়া বাণিজ্য ইংরেজদের হস্তগত হয়। বাংলার সম্পদ ব্যাপকহারে ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে।
এছাড়া ইংরেজদের প্রতিদ্বন্দ্বী ফরাসিরা এ সময় সমূলে উৎপাটিত হয়। এ সময় থেকে নবাবের দরবারে ইংরেজ রেসিডেন্ট রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া বাধ্যতামূলক্ করার মাধ্যমে বাংলার রাজনীতিতে ইংরেজদের স্থায়ী হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পলাশী যুদ্ধের মধ্য দিয়েই ভারতে মধ্যযুগের অবসান ও আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের অবসান ঘটে ও বাংলা তথা ভারতে ইংরেজ শাসনের ভিত্তি রচিত হয়। উপমহাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে নতুন পর্বের সূচনা হয়। তাই বলা যায়, পলাশী যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।