উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা বা দ্বৈতশাসনব্যবস্থা বাংলার জনজীবনে এক বিপর্যয় বয়ে এনেছিল, যা পরবর্তীকালে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সূচনা করে।
লর্ড ক্লাইভ বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হয়ে এক অভূতপর্ব শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এটি ইতিহাসে দ্বৈতশাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত। দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় নবাবের হাতে কার্যত কোনো ক্ষমতা ছিল না। অন্যদিকে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করলেও এর কোনো দায়িত্ব ছিল না। নবাবের পক্ষে নায়েব রেজা খান রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে তৎপরতা দেখালেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে চরম অরাজকতা ও নিরাপত্তাহীনতা নেমে আসে। কোম্পানি কর্তৃক মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের ফলে বাংলায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে। এক পর্যায়ে ১৭৭০ সালে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। ভয়াবহ এ দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে রিচার্ড বেচার মন্তব্য করেছিলেন, "দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতি সত্য।" এতে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, লক্ষ লক্ষ লোক দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ইংরেজ স্বার্থের অনুকূলে হলেও ভারতবর্ষের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল। উক্ত শাসন বাংলায় যে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছিল তা পরবর্তীকালে দুর্ভিক্ষে রূপ নেয়।