হ্যাঁ, আমি মনে করি এ উপমহাদেশে আসা অন্যান্য দেশের বণিকরাও পর্তুগিজ বণিকদের মতই বাণিজ্য ও সাম্রাজ্য বিস্তারের মানসিকতা নিয়ে এসেছিল। তবে তাদের সবাই সফলতা পায়নি।
প্রাচীনকাল থেকেই ভারত ছিল প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। এ দেশের গ্রামগুলো ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। ভারতের উর্বর কৃষিজমিতে বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও অর্থকরী শস্য উৎপন্ন হতো। ভারতে উৎপন্ন কৃষিপণ্যের মধ্যে ছিল ধান, পাট, গম, যব, বার্লি, তামাক, আখ, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের ফল। মসলিনসহ এ দেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কিছু বস্ত্রের খ্যাতি বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ভারতে অনেক খনিজ সম্পদ ও মূল্যবান রত্নও ছিল । বিপুল এ সম্পদের আকর্ষণে অনেক বিদেশি জাতিই যুগে যুগে এদেশের সাথে বাণিজ্য করতে এসেছে। এদের মধ্যে ছিল আরব, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, দিনেমার, ফরাসি, গ্রিক, আর্মেনীয়, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির বণিকরা। তবে এ দেশে ইউরোপীয় বণিকদের আগমণ শুরু হয় কার্যত ষোড়শ শতক থেকে । বাণিজ্যের এক পর্যায়ে তাদের কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা করে। উপমহাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করে লাভবান হতে ইউরোপীয়রা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল। এক্ষেত্রে ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি সবচেয়ে বেশি সফল হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশে প্রথমে বাণিজ্য করতেই এসেছিল। পরবর্তী সময়ে তারা উচ্চাভিলাসী হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতেও সক্ষম হয়।