হ্যাঁ, উদ্দীপকের করিম শাহের যেভাবে পতন হয়, আমার পাঠ্যবইয়ের নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন একইভাবে হয়েছিল। কেননা, উদ্দীপকের শাসকের পতনের সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন নিম্নোক্ত দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে :
প্রথমত, মীরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল নবাবের পরাজয়ের প্রধান কারণ। প্রধান সেনাপতি হিসেবে বিজয়ের মুহূর্তে তিনি নবাবকে ভুল পরামর্শ দেন ও যুদ্ধক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
দ্বিতীয়ত, নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাব এবং মাতামহের অত্যধিক স্নেহপ্রাচুর্যের মধ্যে লালিত-পালিত হওয়ায় সিরাজের চরিত্রে কঠোরতা ও দৃঢ়তার অভাব ছিল। ফলে সংকট মুহুর্তে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া সত্ত্বেও দুর্বলতার কারণে তিনি কারও বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহসী হননি।
তৃতীয়ত, পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিজয়কে উপেক্ষা করে নবাবের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা তাঁর সমরনীতির অপরিপক্বতার ও পরনির্ভরশীলতার পরিচয় বহন করে, যা তাঁর পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
চতুর্থত, ফরাসিরা তার বিরুদ্ধে ইংরেজদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তাঁকে হুঁশিয়ার করে দেওয়ার পরেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। নবাব আলিবর্দী খানও মৃত্যুর আগে সিরাজকে ইংরেজদের শক্তি বৃদ্ধি সম্পর্কে সতর্ক করে যান। মূলত নবাবের মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব দেখা দিয়েছিল।
পঞ্চমত, নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে কর্মচারী, সভাসদ, সেনাপতি, ব্যবসায়ী, ধনকুবের ও সৈন্যরা দ্বিধাবোধ করেনি।
ষষ্ঠত; রবার্ট ক্লাইভ সূক্ষ্ম কূটনীতি, উন্নত রণকৌশল এবং রণসম্ভারে নবাব অপেক্ষা অনেক বেশি পারদর্শী ছিলেন। ফলে ক্লাইভের নিকট নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় নিশ্চিত ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের করিম শাহের পতনের মতো পাঠ্যবইয়ের নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হয়েছিল।