উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে আমার পঠিত পলাশী যুদ্ধে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। প্রথমত, সিরাজ- উদ-দৌলা মসনদে বসার পর ইংরেজ বণিকগণ তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেনি। তারা নবাবের নির্দেশ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে। ফলে নবাব ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। দ্বিতীয়ত, ইংরেজরা কোম্পানির নামে অনুমোদিত 'দস্তক' ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যথেচ্ছ ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিতে থাকে। তৃতীয়ত, বাংলার অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ইংরেজরা 'আলীনগরের সন্ধি'-র শর্তগুলো মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায়। চতুর্থত, ইংরেজরা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ঘসেটি বেগম, শওকত জংকে সহায়তা দানে সম্মত হয়। পঞ্চমত, দেওয়ান রাজ বল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস প্রচুর সম্পদ নিয়ে কলকাতায় ইংরেজদের আশ্রয় নেয়। ইংরেজরা তাকে নবাবের নিকট প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব কারণে নবাবের সাথে ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া অষ্টাদশ শতকে বাংলার কলুষিত রাজনীতি পলাশীর যুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ ও মীরজাফরের ক্ষমতা লাভের অভিপ্রায় ও ইংরেজদের সহায়তা কামনা পলাশী যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।
উদ্দীপকের বর্ণিত রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান সিংহাসনচ্যুত হন। এরপর আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়, যা পলাশী যুদ্ধের ইঙ্গিতবহ ঘটনা।