“উক্ত ব্যক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত হয়”— মতামত দাও ৷
উত্তর: উক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের ফলে ইংরেজদের মর্যাদা ও প্রতিপত্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যুতে বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ প্রশস্ত হয়। যুদ্ধের মাধ্যমে ইংরেজরা জয়লাভ করে মীরজাফরকে বাংলার নবাবের আসনে বসালেও তিনি ছিলেন নামমাত্র নবাব। প্রকৃত ক্ষমতা ছিল ইংরেজদের তথা রবার্ট ক্লাইভের হাতে। পলাশীর যুদ্ধে জয় লাভ করে ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসায় বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে। ফরাসিরা ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের পর আপাতদৃষ্টিতে ইংরেজদের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব স্থাপিত না হলেও ইংরেজ কোম্পানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। পূর্বের অধীনতা থেকে তারা বহুল পরিমাণে মুক্ত, অধিকতর শক্তিশালী এবং নবাবের অপরিহার্য সহায়ক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। পলাশীর যুদ্ধের পূর্বে ইংরেজরা ছিল ভারতীয় শাসকগোষ্ঠীর কৃপা ও অনুগ্রহপ্রার্থী। যুদ্ধে জয়ের ফলে ভারতীয়রা ইংরেজদের কাছে কৃপা ও অনুগ্রহপ্রার্থী হয়ে যায়। মোট কথা, পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজদের স্বার্থে এদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে থাকে। এ যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী পরিণতি হিসেবে উপমহাদেশের সবকিছু কোম্পানির আওতায় চলে আসে। এতে বাংলার সাথে সমগ্র ভারতবর্ষের সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত হয়। ভারতবর্ষের ইতিহাসের মধ্যযুগের অবসান হয়, সূচনা হয় আধুনিক যুগের। তাই বলা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলাহর পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত হয়।
HSC History 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · সৃজনশীল
“উক্ত ব্যক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত হয়”—…
উদ্দীপক
দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, যশোর · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর