উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের পলাশী যুদ্ধের মিল পাওয়া যায়।পলাশী যুদ্ধের কারণ হিসেবে কিছু বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল। মূল কারণ হিসেবে আমি মনে করি, সিরাজউদ্দৌলা মসনদে বসার পর ইংরেজ বণিকগণ তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না করা। উপরন্তু নবাবের নির্দেশ অমান্য করে তারা কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে। ফলে নবাব ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। তাছাড়া ইংরেজরা কোম্পানির নামে অনুমোদিত 'দস্তক' ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যথেচ্ছ ব্যবহার করে শুষ্ক ফাঁকি দিতে থাকে। আবার বাংলার অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ইংরেজরা 'আলীনগরের সন্ধি'-র শর্তগুলো মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ঘসেটি বেগম, শওকত জংকে সহায়তাদানে সম্মত হয়। পরবর্তীতে দেওয়ান রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস প্রচুর সম্পদ নিয়ে কলকাতায় ইংরেজদের আশ্রয় নিলে ইংরেজরা তাকে নবাবের নিকট প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। সবমিলিয়ে নানা কারণেই নবাবের সাথে ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়াও অষ্টাদশ শতকে বাংলার কলুষিত রাজনীতি পলাশীর যুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ ও মীর জাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমতা লাভের অভিপ্রায় ও ইংরেজদের সহায়তা কামনা 'পলাশী যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।