উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের বাংলার নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
মীর কাশিম ছিলেন রাজনীতিতে দূরদর্শী এবং সুদক্ষ শাসক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মীরজাফরের পতনের মূলে ছিল নবাব হিসেবে তার আর্থিক দূরবস্থা, সামরিক দুর্বলতা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থলোলুপতা। মীর কাশিম চেয়েছিলেন সম্মানজনক উপায়ে চুক্তিমত ইংরেজদের প্রাপ্য মিটিয়ে বাংলার স্বার্থরক্ষা করতে। এজন্য তিনি কোম্পানির প্রাপ্য মিটিয়ে আর্থিক ও সামরিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের দিকে নজর দেন। আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়ার পর বাংলার স্বার্থ রক্ষা করতে মীর কাশিম আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেমন— রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে স্থানান্তর, কোম্পানির ব্যবসার সীমারেখা নির্ধারণ ইত্যাদি। কিন্তু তার এ সব উদ্যোগ ইংরেজদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। ফলে কোম্পানির সাথে তার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রুশ বিপ্লবের নেতা ড.ই. লেনিন কৌশল হিসেবে রাজধানী পেট্রোগ্রাড থেকে মস্কোতে স্থানান্তর করেন। এরপর তিনি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করার জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি হাতে নেন। উদ্দীপকের লেনিনের কর্মকান্ডের সাথে উপরে আলোচিত মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের তুলনা করলে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, নবাব মীর কাশিম ঐ রুশ নেতারই প্রতিচ্ছবি। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।