না আমি মনে করি শুধুমাত্র বিচক্ষণতার অভাবই প্রিন্স ফিলিপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের কারণ নয়। তার পরাজয়ে আরো নানাবিধ কারণ ছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাব এবং মাতামহের অত্যধিক স্নেহ ও প্রাচুর্যের মধ্যে লালিত-পালিত হওয়ায় সিরাজের চরিত্রে কঠোরতা ও দৃঢ়তার অভাব থাকলেও মীরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল নবাবের পরাজয়ের প্রধান কারণ। প্রধান সেনাপতি হিসেবে বিজয়ের মুহূর্তে তিনি নবাবকে ভুল পরামর্শ দেন ও যুদ্ধক্ষেত্রে নীরব দ...কের ভূমিকা পালন করেন। তাছাড়া পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিজয়কে উপেক্ষা করে নবাবের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা তার সমরনীতির অপরিপক্বতার ও পরনির্ভরশীলতার পরিচয় বহন করে, যা তার পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
ফরাসিরা তার বিরুদ্ধে ইংরেজদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তাকে হুঁশিয়ার করে দেওয়ার পরেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। নবাব আলীবর্দী খানও মৃত্যুর আগে সিরাজকে ইংরেজদের শক্তি বৃদ্ধি সম্পর্কে সতর্ক করে যান। মূলত নবাবের মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব দেখা দিয়েছিল। নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে কর্মচারী, সভাসদ, সেনাপতি, ব্যবসায়ী, ধনকুবের ও সৈন্যরা দ্বিধাবোধ করেনি। অপরদিকে রবার্ট ক্লাইভ সূক্ষ্ম কূটনীতি, উন্নত রণকৌশল এবং রণসম্ভারে নবাব অপেক্ষা অনেক বেশি পারদর্শী ছিলেন। ফলে ক্লাইভের নিকট নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় নিশ্চিত ছিল।
অতএব প্রিন্স ফিলিপের মতো অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাব নবাব সিরাজের পরাজয়ের কারণ হলেও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র, বরার্ট ক্লাইভের ষড়যন্ত্র, দুর্বলতা, মীরজাফরের উপর আস্থা তার পরাজয়ের জন্য দায়ী।