উদ্দীপকের উল্লিখিত বিভিন্ন জাতির আগমনের ফলে 'খ' দেশের অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা ক্রমান্বয়ে বিপন্ন হয়। উক্তিটি সত্য।
ভাস্কো-ডা-গামার ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কারের পর পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজ বণিকগণ ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আসতে শুরু করে। কিন্তু জলপথ আবিষ্কারের সাথে সাথে ইউরোপীয় অন্যান্য বণিক সম্প্রদায়ও বিশেষত ইংরেজ, ওলন্দাজ বা ডাচ, ফরাসি প্রভৃতি দেশের বণিকগোষ্ঠী ভারতবর্ষের ব্যবসায়িক কাজে আসতে থাকে। পর্তুগিজের পর ওলন্দাজ বা ডাচরা ভারতে আসে এবং তারা আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। পর্তুগিজদের রমরমা মসলা বাণিজ্যের কথা জানতে পেরে দিনেমাররা ভারতে আসে, তবে তারা সুবিধা করতে পারেনি। ভারতে আসা ইউরোপীয় কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ইংরেজরা। ইংরেজরা প্রবেশ করে ভারতে বাণিজ্য কুটি বৃদ্ধি করে এবং রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শুরু করে। তারা ক্রমেই বাণিজ্যদণ্ড থেকে রাজদণ্ড প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। যার ফলে ভারতবর্ষে স্বাধীনতা ক্রমান্বয়ে বিপন্ন হয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণকে প্রায় ২০০ বছর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের জালে আবদ্ধ থাকতে হয়।
উদ্দীপকে দুঃসাহসী নাবিক উইলিয়াম জেমস আবিষ্কৃত জলপথটি ধরেই পরবর্তীতে অন্যান্য জাতি 'খ' দেশটিতে আসে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লিখিত বিভিন্ন জাতির আগমনের ফলে 'খ' দেশের অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা ক্রমান্বয়ে বিপন্ন হয়।