'ক' দেশের বণিকদের মতো পর্তুগিজ দেশের বণিকেরা ভারতবর্ষে ব্যবসায় করতে এসে সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' দেশের কিছু বণিক ব্যবসায় বাণিজ্য করার জন্য 'খ' দেশে আসে। তারা 'খ' দেশে বাণিজ্য করতে এসে সেখানে সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে। একপর্যায়ে তারা 'খ' দেশের জনগণের ওপরও নির্যাতন, লুণ্ঠন ও জোরপূর্বক মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি করতে থাকলে দেশীয় রাজা তাদের ওপর রুষ্ট হন। ফলে তারা ঐ দেশ হতে বিতাড়িত হয়। উদ্দীপকের এরূপ ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের পর্তুগিজ বণিকদের সাদৃশ্য রয়েছে। ভাস্কো-দা-গামার আবিষ্কৃত পথ ধরেই পর্তুগিজ বণিকরা ভারতীয় উপমহাদেশে আসে ব্যবসায় বাণিজ্য করতে। ভাস্কো-দা-গামার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে পেড্রো আল-ভারেজ কাব্রাল তেরোটি নৌবহরসহ উপমহাদেশে আগমন করেন। ভারতীয় বাণিজ্য কুঠিগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে ফ্রান্সিকো-ডি আল মিডার প্রত্যাবর্তনের পর আলবুকার্ক উপমহাদেশে আগমন করেন। আলবুকার্ক পর্তুগিজ গভর্নরদের মধ্যে ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তার নেতৃত্বে উপমহাদেশে পর্তুগিজগণ খুব সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে আল বুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি বিজাপুরের সুলতানের নিকট থেকে গোয়া দখল করে একটি শক্তিশালী বাণিজ্য কেন্দ্র ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলেন। পর্তুগিজ বাণিজ্য জাহাজগুলো আধুনিক রণতরীর মতোই কামান দ্বারা সুসজ্জিত থাকায় কালিকটের রাজার সম্মিলিত বাহিনী পর্তুগিজদের নিকট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। এ পরাজয়ের ফলে ভারতীয় রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক দুর্বলতা পর্তুগিজদের সম্মুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে তারা ভারতীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শুরু করে। ভারতীয় জনগণের প্রতি পর্তুগিজদের অত্যাচার উৎপীড়ন বেড়ে যায়। তারা দিউ, দমন, কালিকট, কোচিন বোম্বাই, সিংহল হুগলি এবং বঙ্গদেশে শক্তিশালী বাণিজ্য কুঠি তথা সাম্রাজ্য স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল।