"একসময় ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতেই ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পতন হয়। " উক্তিটি যথার্থ।
ফ্রান্সের অধিবাসীরা ইতিহাসে ফরাসি নামে অভিহিত। ভারতবর্ষে ইউরোপীয় জাতিগুলোর মধ্যে ফরাসিদের আগমন সবার শেষে। ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে চতুর্দশ লুইয়ের অর্থমন্ত্রী কোলবার্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সম্রাট লুই ব্যবসায়ের জন্য এ কোম্পানিকে ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ হিসেবে প্রদান করেন। ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে ফ্রাঁসোয়া ফ্যারো সুরাটে প্রথম ফরাসি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। এরপর ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিরা মসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন এবং ১৬৭২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজদের কাছ থেকে সানটুম বাণিজ্য কুঠি দখল করে নেয়। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিরা পণ্ডিচেরীতে তাদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। ফ্রাঁসোয়া মার্টিন, ডুগ্নে ও দুমার ঐকান্তিক চেষ্টায় পন্ডিচেরী সর্বাধিক সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়।
ইউরোপীয় অন্যান্য শক্তির মতো ফরাসিরাও ভারতবর্ষে বাণিজ্যের পাশাপাশি সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন দেখতে থাকে। ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দে ডুরে গভর্নর নিযুক্ত হয়ে পণ্ডিচেরীকে কেন্দ্র করে ভারতে ফরাসি সাম্রাজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে একই স্বপ্ন দেখা ইউরোপীয় দুই শক্তি- ইংরেজ ও ফরাসিদের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু ইংরেজরা উন্নত সামরিক শক্তি, কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়। উপরন্তু ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাবের পক্ষ অবলম্বন করার এবং ইংরেজদের যুদ্ধ জয়ের সাফল্য তাদেরকে আরও দুর্বল করে দেয়। ফলে ইংরেজরা ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী বাণিজ্য কুঠি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে পর পর তিনটি দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে তাদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তারের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ফলে তাদের বাধ্য হয়ে এদেশ থেকে বিদায় নিতে হয় এবং ভারতবর্ষে ইংরেজরা একক আধিপত্য বিস্তার করে।
পরিশেষে বলা যায়, “একসময় ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতেই ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পতন হয় । " উক্তিটি যথার্থই।