স্যার রফিক উদ্দিনের বর্ণনার আলোকে আলীগড় আন্দোলনের ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-অধিকার বঞ্চিত ও হতাশাগ্রস্ত মুসলমানদের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। আলীগড় আন্দোলনই মুসলিম জাতীয়তার উন্মেষ ঘটিয়ে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করে। মুসলমানদের পৃথক ও একক স্বাধীন সত্তা লাভের পটভূমি রচনা করেছিল আলীগড় আন্দোলন। আলীগড় আন্দোলনের অনুকরণেই এ সময় আরও কতিপয় মনীষী মুসলিম সমাজে নবজাগরণে সচেষ্ট হন। এদের মধ্যে মৌলভী চেরাগ আলী, স্যার সৈয়দ আমীর আলী, নওয়াব আবদুল লতিফ, বদরুদ্দীন তায়েবজীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। নওয়াব আবদুল লতিফের মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি, সৈয়দ আমীর আলীর সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন এবং বদরুদ্দিন তায়েবজীর আনজুমান-ই-ইসলাম ও দেওবন্দের দারুল উলুম মুসলমানদের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।আলীগড় আন্দোলনের মাধ্যমে উদারপন্থি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্যার সৈয়দ আহমদ খান কতিপয় বাস্তবমুখী ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এতে ইংরেজ-মুসলিম ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং ইংরেজ-মুসলিম বৈরিতার পরিবর্তে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ফলে তারা ইংরেজ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা ও সামঞ্জস্য বিধানের মাধ্যমে সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে। আলীগড় আন্দোলনের প্রভাবে মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হয়।