"উপমহাদেশে গণতন্ত্র প্রবর্তনের পথে লর্ড রিপনই পথপ্রদর্শক”-উক্তটি যথার্থ।পাঠ্যবইয়ের উক্ত শাসক অর্থাৎ লর্ড রিপন ছিলেন ভারতীয় উপমাদেশের ব্রিটিশ বেনিয়া শাসনের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল আসনের অধিকারী। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন এবং স্বায়ত্তশাসন, স্বাতন্ত্র্যবাদ ও শান্তি নীতির বিশ্বাসী ছিলেন। তার গৃহীত ব্যবস্থায় রাজ্যে শান্তি বিরাজ করছিল এবং জনগণ সন্তুষ্ট ছিল। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে দেখা যায় লর্ড রিপন সংস্কার কার্যাদির ক্ষেত্রে শাসনব্যবস্থা ও রাজস্ব পরিচালনা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেন। উপমহাদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তনের ক্ষেত্রে লর্ড রিপনই পথপ্রদর্শক এ 'কথা নিঃসন্দেহে বলা চলে। লর্ড রিপন এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রভৃতি স্থানীয় শাসন পরিচালনার ব্যবস্থা করে একে গণতন্ত্রের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এজন্য তাকে উপমহাদেশে গণতন্ত্র পরিবর্তনের পথ প্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া স্থানীয় সংস্থায় সরকার মনোনীত সদস্য রাখা এবং এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি জনসাধারণের উন্নতির জন্য তিনি নানাবিধ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করেছিলেন। দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রদান করেন। অধিকন্তু তিনি ফ্যাক্টরি আইন, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন, প্রজাস্বত্ব আইন, অবাধ বাণিজ্য প্রবর্তন করেন যা তাকে গণতন্ত্র মনা হিসেবে পরিচিতি লাভ করাতে সাহায্য করেছে।পরিশেষে বলা যায়, লর্ড রিপন একজন প্রজাকল্যাণী শাসক এবং উপমহাদেশে গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক।