“মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল উক্ত দলটির মুখ্য উদ্দেশ্য” —উক্তিটি যথার্থ।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল ভারতীয়র স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মওলানা আজাদের মতো মুসলিমরা ছিলেন। কিন্তু ক্রমে দলটির সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। কারণ বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও কংগ্রেসের কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিমদের মনে এ ধারণা জোরদার হয় যে, দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। অন্যদিকে পাশ্চাত্য ও ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনীহা, ব্রিটিশ সরকারের বিরূপ মনোভাব প্রভৃতি কারণে মুসলমানগণ হিন্দুদের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। উনিশ শতকে এ বিষয়টি স্যার সৈয়দ আহমদ খান, সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নবাব সলিমুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন । এছাড়া কংগ্রেস এ সময় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করায় মুসলমানদের মনে ক্ষোভের জন্ম নেয়। তারা নিজস্ব দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে : একটি স্বতন্ত্র দল গঠনের বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরেন। ফলশ্রুতিতে All India Muslim League নামে একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
মুসলিম লীগ গঠনের প্রাথমিক উদ্দেশ্যের মধ্যে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরার বিষয়টি ছিল অন্যতম। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। সুতরাং, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।