দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামে উক্ত সংগঠনটি অর্থাৎ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে এবং ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ভারত ব্রিটিশরাজের শাসনে চলে যায়। ভারতের মানুষেরা ব্রিটিশ সরকারের শাসনব্যবস্থায় অতিষ্ঠিত ছিল। নিজেদের স্বাধিকার আদায়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় রাজনৈতিক সংগঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হয়। ভারতীয়দের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নকল্পে সংগঠনটি আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই কংগ্রেস ভারতীয় উপমহাদেশের ডোমিনিয়নের মর্যাদা আদায়, স্বায়ত্তশাসন প্রভৃতি লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন 'পরিচালনা করে। কিন্তু কংগ্রেসের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত না করলে কংগ্রেস অসহযোগ, আইন অমান্য আন্দোলনসহ ভারত ছাড় আন্দোলনের মতো জনপ্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এদেশবাসী অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে। এমনকি ভারতবাসী এ প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে ব্রিটিশ শৃঙ্খলমুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হয়।