উক্ত ভাইসরয় অর্থাৎ লর্ড রিপনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভারতীয়দের জন্য বন্ধুবৎসল ছিল বলে আমি মনে করি।লর্ড রিপন প্রশাসন, শিক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থার এমন কিছু সংস্কারগুলোকে কাজ করেন, যা ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। তাঁর ইলবার্ট বিল প্রণয়ন, শিক্ষা সংস্কার, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ছাড়াও কিছু পদক্ষেপ রয়েছে।
১. পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে রহিত করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামত প্রকাশে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেন। ফলে তার জনপ্রিয়তা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।২. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন (Bengal Tenancy Act) তার শাসনামলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি। বাংলাদেশ ও অযোদ্ধার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন।৩. ভারতীয় জনসাধারণের উপকারার্থে লর্ড রিপন অবাধ বাণিজ্যনীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের ওপর শুল্ক হ্রাস করেন এবং আয়কর রহিত করে দেন।৪. ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য 'ফ্যাক্টরি আইন' পাস করে লর্ড রিপন বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। এ আইনের মাধ্যমে শিল্পশ্রমিকদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার নিয়ম চালু করা হয়। এমনকি এ আইন যথাযথভাবে কার্যকরী হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য ফ্যাক্টরি পরিদর্শক নিযুক্ত করেন।