লর্ড রিপন একজন যোগ্য শাসক ছিলেন। ওনার শাসন ব্যাবস্থা, শাসন কার্যক্রম নিচে বর্ণনা করা হলোঃ
রিপনের প্রত্যাবর্তনের পর ১৮৮৫ সালের বিখ্যাত বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব আইন গৃহীত হয়, তথাপি এটি ছিল ইতিপূর্বে তাঁরই নিযুক্ত রেন্ট কমিশনের সুফল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার রায়তশ্রেণি জমিদার ও তালুকদারদের নিপীড়নমূলক রাজস্ব আদায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল। কৃষিবিষয়ক সমস্যাসমূহ পর্যালোচনা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে যথোপযুক্ত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য রেন্ট কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ কমিশনের প্রতিবেদনের ফলশ্রুতি হিসেবে প্রজাদের অধিকার ও দায়িত্ব সংক্রান্ত ব্যাপারে আলোচনা পর্যালোচনা হয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৮৮৫ সালে 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব আইন' প্রণীত হয়। ফলে রায়তগণ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে হারানো অধিকারসমূহ অনেকাংশে ফিরে পায়। শিক্ষা ছিল রিপনের অত্যন্ত প্রিয় বিষয়। গ্ল্যাডস্টোনের উদার সরকারে লর্ড প্রেসিডেন্ট অব দি কাউন্সিল হিসেবে রিপন শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করেছিলেন। বড় লাট হিসেবে রিপন শিক্ষা, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি WW Hunter-এর নেতৃত্বে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সমস্যাসমূহ নির্ণয় করার জন্য 'ইন্ডিয়ান এ্যাডুকেশন কমিশন' নামে কমিটি গঠন করেন। হান্টার কমিশন নামে বহুল পরিচিত এ কমিশনের সুপারিশসমূহের ভিত্তিতে প্রাথমিক ও কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব প্রদান করে একটি নতুন শিক্ষানীতি গৃহীত হয়।
ভারতীয় সংবাদপত্র তাঁর পদক্ষেপে জোরালো সমর্থন জ্ঞাপন করে, কিন্তু ভারতীয় সংবাদপত্রকে স্বাধীনতা প্রদানের বিষয়ে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সংবাদপত্র ও সম্প্রদায় বিরোধিতা করে। বর্ণ বৈষম্য প্রদর্শন না করে সকল সংবাদপত্রকে স্বাধীনতা প্রদানের ব্যপারে রিপনের আদর্শ শেষপর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়। ১৮৮৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রিপন ভারত ত্যাগ করেন। রিপনের পূর্বে বা পরে আর কোন গভর্ণর জেনারেল ভারতীয়দের নিকট তাঁর মতো জনপ্রিয় ছিলেন বলে মনে হয় না এবং বিপরীতভাবে সম্ভবত অপর কোন বড় গভর্ণর জেনারেল রিপনের মতো অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের নিকট এতটা ঘৃণিত ছিলেন না।