উল্লিখিত বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। তোমার মতামত দাও।
উত্তর: উল্লিখিত বিদ্রোহ অর্থাৎ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। সিপাহি ও জনসাধারণের সম্মিলিত এ বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। সিপাহি বিদ্রোহের ফলে বহু অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছিল এবং ভারতের শাসন ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন ঘটেছিল। ব্রিটিশরা এ যাবৎ অনুসৃত শাসননীতির মৌলিক ব্যর্থতা উপলব্ধি করেন এবং শাসন পদ্ধতির পরিবর্তন সাধনে যত্নবান হন। ভারতের মতো একটি বিশাল দেশের শাসনভার একটি বণিক কোম্পানির হাতে আর রাখা যে উচিত নয় তা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরা অনুভব করেন। এজন্য ১৮৫৭ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়। ১৮৫৭ সালের ১ নভেম্বর মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র দ্বারা স্বত্ববিলোপ নীতি পরিত্যক্ত হয়। এছাড়া রাজ্যবিস্তার নীতি পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৮৩৩ সালের সনদ আইনে প্রস্তাবিত কেন্দ্রীকরণ নীতি ১৮৬১ সালের কাউন্সিল আইন দ্বারা পরিত্যক্ত হয় এবং মোম্বাই ও মাদ্রাজ কাউন্সিলকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রত্যপিত হয়। এ নতুন কাউন্সিল আইন অনুসারে ভারতের নতুন আইনসভা বাতিল হয়। সামরিক বিভাগকে নতুনভাবে গঠন করা হয়। ইউরোপীয় সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। সিপাহি বিদ্রোহের ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ বন্দি হয়ে রেঙ্গুনে নির্বাসিত হন এবং তার পুত্র ও পৌত্রগণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শাসক ও শাসিতের মধ্যে জাতিগত বৈরিতা ও পরস্পর তিক্ততার সৃষ্টি হয়। এ সময় থেকেই সহযোগিতার পরিবর্তে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর বিরোধিতা শুরু হয়। সিপাহি বিদ্রোহের পর সরকার মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বিশেষ রোষ দেখায় এবং বেশ কিছুদিন মুসলিমদের দিক থেকে সরকার মুখ ফিরিয়ে রাখে। ভারতবাসীর সুষ্ঠু সামাজিক ও পারিবারিক জীবন গঠনের জন্য যে নীতি এ যাবৎ অনুসৃত হয়েছিল তা সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়। ভারতবাসীর কুসংস্কারের ওপর সিপাহি বিদ্রোহ চরমভাবে আঘাত হানে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারতীয় সাম্রাজ্যের পুনর্গঠনে কাজ শুরু হয়। সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
HSC History 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · সৃজনশীল
উল্লিখিত বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। তোমার মতামত দাও।
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর