উক্ত নীতি অর্থাৎ অধীনতামূলক মিত্রতানীতির প্রয়োগের দ্বারা লর্ড ওয়েলেসলি ভারতে ব্রিটিশ শক্তিকে সুসংহত করেন।
লর্ড ওয়েলেসলির অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, বিস্তারের এক অভিনব উপায় হিসেবে কাজ করে। অবশেষে ওয়েলেসলি তার সাম্রাজ্যবাদী অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রয়োগে অগ্রসর হন। সর্বপ্রথম এ নীতি প্রয়োগ করা হয় হায়দ্রাবাদের নিজামের রাজ্যে। খরদার যুদ্ধে লাঞ্ছিত ও ক্ষতিগ্রস্ত নিজাম মারাঠাদের আক্রমণের ভয়ে সর্বদাই আতঙ্কিত ছিলেন। তাই ওয়েলেসলি মিত্রতানীতি গ্রহণে আমন্ত্রণ জানালে নিজাম সহজে তা গ্রহণ করেন ৷ কিন্তু মহীশূরের বাঘ খ্যাত টিপু সুলতান এ নীতি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে কোম্পানির সাথে তার যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে টিপু সুলতান পরাজিত ও নিহত হলে মহীশূর রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। ওয়েলেসলি মারাঠা শক্তিকে যুদ্ধে পরাজিত করে রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। ছোট ছোট রাজ্যগুলোর মধ্যে তাঞ্জোর, সুরাট ও কর্ণাটের ওপর বলপ্রয়োগ করে অধীনতামূলক নীতি গ্রহণে বাধ্য করা হয়। তার সাম্রাজ্যবাদী নীতির নগ্ন প্রয়োগ ঘটে অযোধ্যা রাজ্য দখলের মধ্য দিয়ে। অযোধ্যায় কুশাসন চলছে এবং কাবুলের জামানশাহ কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার অজুহাতে অযোধ্যার নবাবকে মিত্রতায় আবদ্ধ হতে বাধ্য করা হয়। এভাবে তিনি ভারতের শক্তিশালী ও দুর্বল রাজ্যগুলোকে একে একে পদানত করে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
তাই বলা যায়, লর্ড ওয়েলেসলি অধীনতামূলক মিত্রতানীতির মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শক্তিকে সুসংহত করেন।