উদ্দীপকের সাথে কোম্পানি আমলের শাসক ওয়ারেন হেস্টিংসের সাদৃশ্য রয়েছে।
লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জেনারেল হয়ে অনেক সংস্কার সাধন করেন। তিনি ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেন। কোম্পানির উন্নয়নের জন্য তিনি কোনো ন্যায়নীতি তোয়াক্কা করতেন না। তার বাল্যবন্ধু ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে। ইম্পে ছিলেন ভারতে কোম্পানির প্রধান বিচারপতি। তিনি ইম্পের মাধ্যমে অসৎ কাজগুলো সম্পন্ন করতেন। হেস্টিংস এদেশের দুর্ভিক্ষপীড়িত জনগণকে বাঁচাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হতে ১০ লাখ পাউন্ট ঋণ গ্রহণ করেন। ফলে ঋণ পরিশোধ ও আর্থিক উন্নতির জন্য 'তিনি ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করে গর্হিত ও নীতি বিরুদ্ধ কাজ করতেন। তাছাড়া তিনি সম্রাট শাহ আলমকে দেওয়া বার্ষিক ২৬ লাখ টাকা বন্ধ করে দেন এবং এলাহাবাদ ও কারা জেলা দুটি অযোধ্যার নবাবকে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রদান করেন যা ছিল অনৈতিক কাজ। তার অর্থ উপার্জনের লালসা থেকে রাজা চৈৎ সিংহ ও অযোধ্যার বেগমও রেহাই পাননি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিম সাহেব ছিল ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কর্মজীবনের প্রথমদিকে তিনি একজন জনদরদি ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু যখনই ছেলেবেলার বন্ধু করিমের সাথে তার পুনরায় যোগসূত্র স্থাপিত হয় তখনই তিনি আমূল পাল্টে যেতে থাকেন। অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করাই তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। উদ্দীপকে ওয়ারেন হোস্টিংসের ক্ষেত্রে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে। সুতরাং, বলা যায়, রহিম সাহেবের সাথে ওয়ারেন হেস্টিংসের সাদৃশ্য রয়েছে।