উদ্দীপকের প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত রহমত শেখের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তউল্লাহর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যেসব সংস্কারবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল ফরায়েজি আন্দোলন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রথম দিকে এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলেও পরবর্তীতে তা সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি এটি ছিল কৃষক আন্দোলন। ফরায়েজি আন্দোলন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার হিসেবে শুরু হলেও এটি শুধু মুসলমানগণকে সংঘবদ্ধ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেনি, স্থানীয় হিন্দু কৃষকদের এক বিরাট অংশকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এভাবে এ আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেয় এবং পরবর্তীকালে এ আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। ইসলাম ধর্মে যা অবশ্যই পালনীয় তা করার জন্য তিনি মুসলমান সমাজকে আহ্বান জানান। তিনি ভারতবর্ষকে দারুল হারব বলে ঘোষণা করেন। বাংলায় শোষিত, নির্যাতিত রায়ত, কৃষক, তাঁতি, তেলি সম্প্রদায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার আন্দোলনে যোগদান করে। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে এবং শরীয়তউল্লাহর বিরুদ্ধচরণ করে।
উদ্দীপকের রহমত শেখ যেমন নিজ সম্প্রদায়কে প্রকৃত ধর্ম পালনে উদ্বুদ্ধ করে হাজী শরীয়তউল্লাহও নিজ সম্প্রদায়কে প্রকৃত ধর্ম পালনে উদ্বুদ্ধ করে তাদের সংগঠিত করেন। ফলে জমিদার শ্রেণি তার বিরুদ্ধাচরণ করে। সুতরাং বলা যায়, রহমত শেখের সাথে হাজী শরীয়তউল্লাহর কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।