উদ্দীপকে উল্লিখিত সতীদাহ প্রথা বিলোপের সাথে ভারতের লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক (Lord William Bentink)-এর নাম জড়িত। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক তার শাসনামলে ভারতীয় সমাজে কিছু সামাজিক সংস্কার সাধন করেন। যা তৎকালীন ভারতীয় সমাজে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। তার সামাজিক সংস্কারমূলক কাজের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য 'সতীদাহ প্রথা' রহিতকরণ। প্রাচীনকাল থেকেই এদেশের হিন্দু সমাজে 'সহমরণ' (মৃত স্বামীর সাথে স্বেচ্ছায় একই চিতায় স্ত্রীর মৃত্যুবরণ করা) এবং 'অনুমরণ' (বিদেশে স্বামীর মৃত্যু হলে বিধবাকে একাকী চিতায় পুড়িয়ে মারা) প্রথা প্রচলিত ছিল। অনেক সময় অনেক বিধবার অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও সামাজিকতা রক্ষার খাতিরে জোরপূর্বক তাদের এ প্রথা মানতে বাধ্য করা হতো। লর্ড বেন্টিংক রাজা রামমোহন রায় ও দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় ১৮২৯ সালে এ অমানবিক প্রথা রহিত করেন। এছাড়া তিনি শিশু কন্যাসন্তান হত্যা ও প্রথম সন্তানকে গঙ্গায় বলি দেবার প্রথা রহিত করেন। তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক অবদান ছিল 'ঠগী দমন'। কর্নেল স্লিম্যান (Henry Sleeman) এর সহায়তায় ১৮৩০ সালে তাদের কঠোরভাবে দমন ও শাস্তি প্রদান করা হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সতীদাহ প্রথা' বিলোপের সাথে জড়িত গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের সামাজিক সংস্কারসমূহ ছিল গুরত্বপূর্ণ।