উল্লিখিত বিদ্রোহ অর্থাৎ 'সিপাহি বিদ্রোহের' ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী- উক্তিটি যথার্থ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যেবাদের বিরুদ্ধে এটাই ছিল প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
প্রথমত, সিপাহি বিদ্রোহ ভারতে ব্রিটিশ সরকারের নীতি ও শাসনকার্যের। ব্যাপারে বিরাট পরিবর্তন আনয়ন করে। এ পরিবর্তনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কোম্পানির শাসনের অবসান।
দ্বিতীয়ত, ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মহারানী ভিক্টোরিয়ার এক ঘোষণাপত্র দ্বারা ভারত প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটিশ সরকারের কর্তৃতাধীনে আসে। পার্লামেন্ট কর্তৃক (Act for the Better government for India) বিধিবদ্য হয়। ভারতের জন্য একজন 'ভারত সচিবের' (Secretary of State) পদ সৃষ্টি করা হয়।
তৃতীয়ত, ব্রিটিশ সরকার তার পুরাতন রাজ্য বিস্তার নীতি হতে সরে আসে। মহারানীর ঘোষণাপত্রে 'স্বত্ববিলোপ নীতি' পরিত্যাক্ত হয় এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে উচ্চরাজ পদে নিযুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
চতুর্থত, ভারতে ইংরেজ সৈন্যসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তোপখানার ভার ইংরেজদের অধীনে রাখা হয়।
পঞ্চমত, ১৮৫৭ সালের এ মহাবিদ্রোহের পর ভারতীয় সমাজে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়।
ষষ্ঠত, এ বিদ্রোহের ফলশ্রুতিতেই মুঘল সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।
সপ্তমত, ব্রিটিশ সরকার হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধতার শক্তি অনুধাবন করতে পেরে চিরাচরিত ব্রিটিশ নীতি (Divide and Rule) অনুসরণ করে। ভারতের হিন্দু সম্প্রদায় ইংরেজি শিক্ষাকে গ্রহণ করে সামাজিক দিক দিয়ে এগিয়ে যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সিপাহি বিদ্রোহ সফল না হলেও পরবর্তীকালে সংঘটিত সকল আন্দোলনে এ বিদ্রোহ প্রেরণা যুগিয়েছিল। সুতরাং, সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।