উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল আছে।
উদ্দীপকে হতে জানা যায়, সম্রাট শেরশাহ ভারতে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একজন অন্যতম পথপ্রদর্শক। তার শাসনামলে তিনি নিজস্ব চিন্তা চেতনার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। এ নীতি এতই উন্নত ছিল যে, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটগণ এমনকি ইংরেজরাও এ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। অপরদিকে পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ মার্চ ভূমি ব্যবস্থায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় জমিদারগণ জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাদের রাজম্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট হয়। যথাসময়ে নির্দিষ্ট কর প্রদান করে জমিদাররা পুরুষানুক্রমে জমিদারি ভোগ করার অধিকার পান। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে জমিদারদের আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দ্বারা জমিদারদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এদেশের জমিদার শ্রেণিকে বিত্তবান করেছিল এবং এসব বিত্তবান জমিদারেরা এদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে বর্ণিত শেরশাহের কার্যক্রমের সাথে লর্ড কর্নওয়ালিশের গৃহীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মিল রয়েছে।