উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মত উক্ত শাসক অর্থাৎ লর্ড ডালহৌসি (Lord Dalhousie) তার বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করেন- উক্তিটি যথার্থ।
লর্ড ডালহৌসির সংস্কারমূলক কাজের মধ্যে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রবর্তন অন্যতম। তিনি (Wood's Despatch) -এর শিক্ষাসংক্রান্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে নবযুগের সূচনা করেন। ১৮৫৭ সালে কলকাতা, মাদ্রাজ, বোম্বাইতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইন বিভাগ খোলা, বিজ্ঞান গবেষণা ও সাহিত্যচর্চার ব্যবস্থা, ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ভারতের সমাজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতে রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে তিনি PWD (Public Works Department) স্থাপন করেন। প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি বাংলা প্রদেশ শাসনের জন্য লেফটেন্যান্ট গভর্নর (Lieutenant Governor) এর পদ সৃষ্টি করেন। ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস, ধর্মান্তরিতদের উত্তরাধিকারে প্রাপ্ত সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ছিল তার সময়োচিত ও সাহসী পদক্ষেপ।
উদ্দীপকে কেতুপুর অঞ্চলের চেয়ারম্যান বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসার দাবিদার। উক্ত ব্যক্তির সাথে লর্ড ডালহৌসির কাজের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি তার বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করেন।