উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা অর্থাৎ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বর্বরতার সাথে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রে বাঙালির ওপর পাক সেনাদের পরিচালিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সাদৃশ্য রয়েছে।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকাসহ সারাদেশে পাকহানাদার বাহিনী নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ এবং অমানুষিক নির্যাতন চালায়। তারা আধুনিক মারণাস্ত্র যেমন- ট্যাঙ্ক, কামান, মেশিনগান নিয়ে বাংলার নিরস্ত্র জনতার ওপর বঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় ইতিহাসের জঘন্যতম নরহত্যা। নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বেরিকেড সৃষ্টি করলেও মানুষ হানাদারদের ছোবল থেকে মুক্তি পায়নি। বিশেষ করে হিন্দু বস্তি এলাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকাগুলোতে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে গণহত্যায় মেতে ওঠে পাকবাহিনী। এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অসংখ্য নারী ও শিশু তাদের প্রাণ ও সম্ভ্রম হারায়। এছাড়া লক্ষ লক্ষ বাড়িঘর জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। পাকবাহিনীর এ বর্বরতারই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে। ২০২১ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আকস্মিকভাবে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামলা চালায়। এতে হাজার হাজার নিরস্ত্র, অসহায় ফিলিস্তিনি নারী, শিশু, পুরুষ নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে।অতএব বলা যায়, ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালিদের ওপর যে নির্যাতন চালায় তেমন নির্যাতনই চালায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজার 'ওপর। সুতরাং এ ঘটনা দুটি পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।