উক্ত সরকারের অর্থাৎ মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালিদের প্রতি যে সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল তা ছিল বহির্বিশ্বে 'মুজিবনগর সরকারের বিভিন্নমুখী কর্মতৎপরতার ফল। বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ব্রিটেনে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সেখানে প্রবাসী বাঙালিদের সংঘবদ্ধ করে আন্দোলন ও জনমত গঠনে বিশেষ সফলতা এসেছিল।উল্লিখিত দিক ছাড়াও বহির্বিশ্বে তৎপরতার বিদেশে প্রশিক্ষণরত সিভিল সার্ভেন্টদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ জন এবং যুক্তরাজ্য ২ জন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছিলেন। তাছাড়া ইরাক, ফিলিপাইন, আর্জেন্টিনা, কলকাতা, দিল্লি, 'লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়ার্ক, কাঠমান্ডু, হংকং প্রভৃতি স্থানে নিযুক্ত পাকিস্তান দূতাবাসে নিযুক্ত উচ্চপদস্থ কূটনৈতিকগণ মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকারের প্রতি সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। ফলে অতি স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। শুধু তাই নয়, বহির্বিশ্বে কর্ম তৎপরতার ফলে এ সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, বাংলাদেশ সমস্যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বা শরণার্থী সমস্যা নয় বরং এটা ছিল শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম। যার ফলে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।পরিশেষে বলা যায় যে, মুজিবনগর সরকার কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল।