আমার মতে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তর তথা কলকাতায় ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে গড়ে ওঠা প্রবাসী সরকারের দপ্তরের যথেষ্ট প্রয়োজন ছিল।কেননা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির জন্য এক অহংকার। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষে আমরা অর্জন করি আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালি জাতির ওপর অতর্কিত এক নৃশংস আক্রমণ পরিচালনা করে। ২৬ মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাছাড়া ২৬ মার্চ থেকেই যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে দেয় বাঙালিরা। আর ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় ভবেরপাড়া গ্রামটিকে মুজিবনগর নামকরণ করে এবং সেখানে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের দুই ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমা হামলা করে স্থানটিকে তাদের দখলে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রবাসী সরকার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে সচিবালয় গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম। কেননা তখনকার বাস্তবতায় এ সরকার দেশের ভিতরে যেখানেই দপ্তর স্থাপন করতেন সেখানেই পাকসেনারা তা গুঁড়িয়ে দিত। কাজেই এখানে নিরাপত্তার বিষয়টিকে কোনো অবস্থাতেই খাটো করে দেখার মতো নয়। এক্ষেত্রে কলকাতায় স্থাপিত দপ্তরটি ছিল শতকরা একশ ভাগ নিরাপদ। আর দপ্তর নিরাপদ না হলে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা এবং আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা প্রবাসী সরকারের পক্ষে কখনো সম্ভব হতো না এবং আমরা স্বাধীনতা পেতাম কী পেতাম না তাও অনিশ্চিত ছিল।অতএব, উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।