উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধও গণযুদ্ধ ছিল— উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গণযুদ্ধে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও | বেসামরিক জনগণকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১১ এপ্রিল বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়। এসব বাহিনীতে সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিল। এছাড়া সাধারণ যোদ্ধা, গেরিলা, ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিকসহ সব পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অনিয়মিত বাহিনী গঠ করা হয়েছিল। এ বাহিনীর নাম ছিল 'গণবাহিনী বা মুক্তিযোদ্ধা'। এ বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় যুদ্ধ করার জন্য নিয়োজিত করা হতো। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ শহিদের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি আতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এ স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল গণযুদ্ধ।