মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের উক্ত দপ্তর অর্থাৎ তথ্য ও বেতার দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের খবরা-খবর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বহিবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার অন্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধ সংঘটনের সংবাদ পেয়ে অনুপ্রাণিত হয় এবং দলে দলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র যুদ্ধক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের অবিরাম উৎসাহ যোগাতে সহায়তা করে গেছে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এ বেতারকেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল অগ্নিশিখা, রক্তস্বাক্ষর, বজ্রষ্ঠ, চরমপত্র ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের সময় চরমপত্র ছিল সবচাইতে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এছাড়া প্রকাশিত ছোট ছোট পত্রিকা দ্বারা রণাঙ্গনের যুদ্ধের বিবরণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা, শরণার্থী শিবিরের অবস্থা ও মানুষের মানবেতর জীবনযাপন, বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য বিশ্ববাসীর কাছে
আহ্বান, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশিত হতো। এসকল কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল ধরে রাখতে তথ্য ও বেতার দপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের নয় মাস মুজিবনগর সরকারের তথ্য ও বেতার দপ্তরের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।