১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদেশের ছাত্রসমাজই প্রথম সত্যিকারভাবে অনুধাবন করে যে, পাকিস্তানিরা ভিন্ন জাতিসত্তার অধিকারী হওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে বাঙালিদের সহাবস্থান অসম্ভব। বাংলার ছাত্র সমাজের নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এদেশের মানুষ তাদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া নানা প্রকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। আর বাঙালি জাতি তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ক্রমাগত সংঘবদ্ধ হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, আইয়ুবী শাসনের প্রতিবাদে, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং এদেশের প্রত্যেকটি স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল পর্যায়ে ছাত্রসমাজ পালন করেছে গুরুত্বপূর্ণ গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সভায় দেশের পতাকা প্রথম উত্তলনের মাধ্যমে এই মহান আন্দোলনে ছাত্রসমাজ তাদের অগ্রণী ভূমিকার যাত্রা শুরু করে। ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালের কাল রাতে পাকিস্তানি তাদের নিধন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এদেশের জনগণের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে চায়। দেশের এই সংকটকালীন সময়ে ছাত্রসমাজ এককভাবে সংগঠিত না হয়ে বরং বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে ঢুকে তাদের সর্বোচ্চ সাধ্যমতো প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলে । স্বাধীনতা যুদ্ধে ঢাকা শহরে ছাত্রদের গেরিলা আক্রমণ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সকল অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অপরদিকে, দেশপ্রেমিক জনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার অনুপ্রেরণা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আমরা অর্জন করি একটি দেশ, কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।