ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।
উত্তর: ভাব-সম্প্রসারণ: কর্মময় জীবনযাপনের মধ্যেই জীবনের সার্থকতা, তাতেই যথার্থ সুখ। ভোগ-লালসা মেটানোর মধ্যে প্রকৃত সুখ নেই। মানুষ স্বভাবতই প্রবৃত্তির দাস। প্রবৃত্তির শৃঙ্খল মোচনের মাধ্যমেই মানুষের আত্মমুক্তি ঘটে। আর এ আত্মমুক্তির মাধ্যমেই পাওয়া যায় জীবনের সার্থকতা। ভোগে আসক্তি জন্ম নেয়, জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। ভোগ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে তোলে ফলে মানুষ তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে, সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হয় এবং যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করে। ভোগবাদী মানুষ পৃথিবীর মানুষের জন্যে কোনো মহৎ কাজ করতে পারে না। অপরপক্ষে ত্যাগী মানুষ খুব সহজেই স্বীয় মহিমায় সমুজ্জ্বল হতে পারে। ত্যাগের মাধ্যমেই মানুষ পৃথিবীতে অমরত্ব লাভকরে, পৃথিবীর মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পায়। ত্যাগেই মানবজীবনের সার্থকতা প্রতিপন্ন হয়, মানুষ প্রকৃত সুখ লাভে সক্ষম হয়। তাই ত্যাগই আমাদের চরিত্রের সর্বোচ্চ আদর্শ হওয়া উচিত। কেবল ত্যাগের দ্বারাই মানবজীবন সার্থক করা সম্ভব। মানুষ যদি অপরের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করে, তাতে তার চরিত্রে মহত্ত্বেরই প্রকাশ ঘটে। -এখানেই জীবনের যথার্থ গৌরব, প্রকৃত সুখ। জীবনের সুন্দর বিকাশের জন্যে স্বার্থত্যাগ বাঞ্ছনীয়। ভোগে জীবনের কোনো সার্থকতা নেই, নেই ন্যূনতম সুখ। ভোগহীন জীবন পরার্থে উৎসর্গ করার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ।
SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৬ : ভাব-সম্প্রসারণ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৬ : ভাব-সম্প্রসারণ · সৃজনশীল
ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।
উত্তর