পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।
উত্তর: ভাব-সম্প্রসারণ: যে মানুষ অপরের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করে, পরিণামে তাকেই ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রকৃতি সমতা নিয়ন্ত্রণ করে বলেই হয়তো মানুষকে এ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। জগতের অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের পার্থক্য এখানেই যে, সে শুধু নিজের কথা চিন্তা করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে না। তাকে তার চারপাশের জগৎ নিয়েও ভাবতে হয়। যে মানুষ সবসময় অন্যের উপকারের কথা ভাবে সে সমাজে সম্মানিত হয় এবং সেই সঙ্গে তার মানসিক চিন্তারও 'উন্নয়ন ঘটে। অপরপক্ষে, যে ব্যক্তি সবসময় অন্যের ক্ষতি চিন্তা করে সে সবসময় হীনম্মন্যতায় ভোগে। অন্যের অনিষ্ট করার চিন্তা করতে করতে তার মন ছোটো হয়ে যায়। ফলে কখনো সে আর ভালো কিছু চিন্তা করতে পারে না। এমনকি নিজের ভালোর কথাও সে ভাবতে পারে না। খারাপ চিন্তার কারণে চিত্তে শুদ্ধি আসে না বলে আপন কর্মক্ষেত্রেও সে উন্নতি করতে পারে না। পার্থিব কর্মের ফল মানুষ কোনো না কোনোভাবে পৃথিবীতেই পেয়ে যায় বলে এ ধরনের ব্যক্তিকে নিজ জীবনেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্বের মহান ব্যক্তিরা কখনো অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করতেন না, তাঁরা সবসময় বৃহত্তর জনসমাজের কল্যাণের কথাই চিন্তা করতেন। তাই আজ তাঁরা আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন। অপরপক্ষে যারা অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা করতো তারা যেমন জীবিত থাকতেও সুখী হতে পারেনি, তেমনি মৃত্যুর পরেও ইতিহাসের পাতায় খলনায়করূপে সবার ঘৃণার পাত্র হয়ে আছে। সবসময় অন্যের উপকারের কথাই ভাবা উচিত। এতেই মানবজীবনের প্রকৃত সুখ ও সার্থকতা নিহিত। অন্যের অনিষ্ট করার চিন্তা বাদ দিলে, নিজের অনিষ্টও জীবন থেকে বহু দূরে থাকে।
SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৬ : ভাব-সম্প্রসারণ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৬ : ভাব-সম্প্রসারণ · সৃজনশীল
পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।
উত্তর