উদ্দীপকে পাহাড়ি ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের কথা বলা হয়েছে।
পাহাড়ি বনের অধিকাংশ বৃক্ষ চিরহরিৎ ও পত্রমোচী। এসব কাষ্ঠল বৃক্ষ | জ্বালানি ও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এখানে প্রধান কুটির. শিল্পজাত বৃক্ষ হিসেবে বাঁশ ও বেত প্রচুর পাওয়া যায়। সিলেট জেলার উত্তর পূর্বাঞ্চলে চা চাষ করা হয়। এই চা বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। এই বনাঞ্চল বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল। এই বন পরিবেশ ও জীবের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বেশ কিছু কলকারখানা, বিশেষত রেয়ন, মন্ড, কাগজ, প্লাইউড, কেবিনেট ও আসবাবপত্র কারখানায় পাহাড়ি বনের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ি বনাঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসীরা জীবিকা নির্বাহের জন্য বহুলাংশে বনের ওপর নির্ভর করে এবং বিভিন্ন ফসল ফলাতে তারা জুম চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে।
আবার, বাংলাদেশের মানুষের জাতীয়, সামাজিক, পারিবারিক জীবনে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সুন্দরবনের বন বৃক্ষ ও বনজ সম্পদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ম্যানগ্রোভ বনের উল্লেখযোগ্য বৃক্ষসমূহ হলো সুন্দরি, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা ইত্যাদি। এ সকল বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত কাঠ গৃহনির্মাণ, নিউজপ্রিন্ট কাগজ তৈরি, রেয়ন, দিয়াশলাই, চায়ের বাক্স প্রস্তুত ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ম্যানগ্রোভ বন থেকে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া এ বন থেকে কাঠ আহরণ ও ব্যবসার কাজে ২০ লাখ লোক সম্পৃক্ত রয়েছে। তাই বর্তমানে অর্থনৈতিক দিক থেকে ও জীবিকা অর্জনে সুন্দরবনের কাঠ বিরাট ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া সুন্দরবন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করে । বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৭.৫০ লক্ষ হেক্টর জুড়ে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন। এই বনাঞ্চল ঝড়ঝঞ্ঝা ও জলোচ্ছ্বাসজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে উপকূলীয় সংশ্লিষ্ট এলাকাকে সংরক্ষণ করে । উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পাহাড়ি ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের গুরুত্ব ও অবদান অনস্বীকার্য।