Chapter 4 : বনায়ন কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র

HSC কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র এর Chapter 4 : বনায়ন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৬৩

প্রশ্ন

কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তানভির সাহেব বনায়ন কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের গ্রামের জমিতে বিভিন্ন ধরনের কাঠের ও ফলের গাছ লাগান। তিনি কাঠের গাছ পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পূর্বে ছাঁটাই করেন এবং ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করেন। এর ফলে তার গাছের ফুল, ফলধারণ ও ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

Jessore · 2025

বন কী?

উত্তর

বন বলতে বৃহৎ আকৃতির বৃক্ষরাজি দ্বারা আচ্ছাদিত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়, যেখানে প্রাকৃতিক বন্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য জীব বসবাস করতে পারে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ- ১. গাছ ও প্রাণীর জন্মস্থান, বাসস্থান ও বিচরণের স্থান হলো বন। ২. গাছ ও প্রাণীর বংশবিস্তারের স্থান হলো বন। ৩. গাছ ও প্রাণী বিলুপ্তি প্রতিহত করে বন। ৪. বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের উৎপত্তি ও সংরক্ষণের স্থান হলো বন। ৫. বিভিন্ন পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গের আশ্রয়স্থল এবং প্রজননের উপযুক্ত স্থান হলো বন।
উদ্দীপকে তানভির সাহের তার গাছগুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তানভির সাহেব বাগানে যে কর্মকাণ্ড করেছেন তা হচ্ছে ট্রেনিং এবং প্রুনিং। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- বৃক্ষের আকার-আকৃতি ও অঙ্গ-বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় রেখে কাঠামো সুন্দর ও সাবলীল করার জন্য শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করাকে বৃক্ষের ট্রেনিং বলে। ট্রেনিং এর মাধ্যমে বৃক্ষের কাণ্ডের নিচ থেকে কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, বৃক্ষের আকার-আকৃতি সুন্দর হয়, বৃক্ষের কাঠামো শক্ত হয়। আর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা, মূল, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির অপ্রয়োজনীয় অংশ ছাঁটাই করাকে প্রুনিং বলে। প্রুনিং এর ফলে বৃক্ষের অঙ্গজ বৃদ্ধি, পুষ্পায়ন, ফল ধারণ, ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। ফল সংগ্রহের পরে ডালপালা ছাঁটাই করলে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। ফলে নতুন কুশি গজায়। নতুন নতুন কুশিতে ফুল ফল ধরে। প্রুনিং এর ফলে রোগাক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করায় রোগের আক্রমণ হয় না। ফুল, ফল উৎপাদন বাড়ে। পরিশেষে বলা যায়, বৃক্ষের কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি, আকার-আকৃতি ঠিক রাখা, উৎপাদন বৃদ্ধিতে তানভির সাহেবের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ ট্রেনিং ও প্রুনিং অতীব জরুরি।
উদ্দীপকের আলোকে তানভিরের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

তানভির সাহেব সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা পরিবেশ সংরক্ষণ, আর্থিক লাভ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজের গ্রামের জমিতে কাঠ ও ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে মাটি ক্ষয় রোধ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার লাগানো কাঠের গাছগুলো পূর্ণ বয়সে পৌঁছানোর আগেই ছাঁটাই করার ফলে গাছের কাঠ সোজা, মোটা মানসম্মত হয়ে ওঠে। এতে কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়ে এবং ভবিষ্যতে কাঠ বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আবার প্রুনিং তথা ফলজ গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল নিয়মিত ছাঁটাই করার মাধ্যমে গাছ স্বাস্থ্যকর থাকে এবং গাছে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস প্রবাহিত হয়। ফলে গাছে বেশি ফুল আসে, ফল ধারণের হার বাড়ে এবং ফলের আকার, রং ও স্বাদে গুণগত মান নিশ্চিত হয়। এছাড়া রোগবালাইয়ের সংক্রমণ কমে গিয়ে গাছ দীর্ঘস্থায়ী ও উৎপাদনশীল হয়। তানভির সাহেবের এই কর্মকান্ড শুধু তার নিজের নয়, তার আশপাশের মানুষকেও সামাজিক বনায়নের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এতে করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়। তাই সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, তানভির সাহেবের গাছ রোপণ ও পরিচর্যার প্রতিটি পদক্ষেপ সময়োপযোগী, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তানভির সাহেব বনায়ন কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের গ্রামের জমিতে বিভিন্ন ধরনের কাঠের ও ফলের গাছ লাগান। তিনি কাঠের গাছ পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পূর্বে ছাঁটাই করেন এবং ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করেন। এর ফলে তার গাছের ফুল, ফলধারণ ও ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

Jessore · 2025

বন কী?

উত্তর

বন বলতে বৃহৎ আকৃতির বৃক্ষরাজি দ্বারা আচ্ছাদিত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়, যেখানে প্রাকৃতিক বন্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য জীব বসবাস করতে পারে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ- ১. গাছ ও প্রাণীর জন্মস্থান, বাসস্থান ও বিচরণের স্থান হলো বন। ২. গাছ ও প্রাণীর বংশবিস্তারের স্থান হলো বন। ৩. গাছ ও প্রাণী বিলুপ্তি প্রতিহত করে বন। ৪. বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের উৎপত্তি ও সংরক্ষণের স্থান হলো বন। ৫. বিভিন্ন পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গের আশ্রয়স্থল এবং প্রজননের উপযুক্ত স্থান হলো বন।
উদ্দীপকে তানভির সাহের তার গাছগুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তানভির সাহেব বাগানে যে কর্মকাণ্ড করেছেন তা হচ্ছে ট্রেনিং এবং প্রুনিং। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- বৃক্ষের আকার-আকৃতি ও অঙ্গ-বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় রেখে কাঠামো সুন্দর ও সাবলীল করার জন্য শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করাকে বৃক্ষের ট্রেনিং বলে। ট্রেনিং এর মাধ্যমে বৃক্ষের কাণ্ডের নিচ থেকে কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, বৃক্ষের আকার-আকৃতি সুন্দর হয়, বৃক্ষের কাঠামো শক্ত হয়। আর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা, মূল, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির অপ্রয়োজনীয় অংশ ছাঁটাই করাকে প্রুনিং বলে। প্রুনিং এর ফলে বৃক্ষের অঙ্গজ বৃদ্ধি, পুষ্পায়ন, ফল ধারণ, ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। ফল সংগ্রহের পরে ডালপালা ছাঁটাই করলে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। ফলে নতুন কুশি গজায়। নতুন নতুন কুশিতে ফুল ফল ধরে। প্রুনিং এর ফলে রোগাক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করায় রোগের আক্রমণ হয় না। ফুল, ফল উৎপাদন বাড়ে। পরিশেষে বলা যায়, বৃক্ষের কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি, আকার-আকৃতি ঠিক রাখা, উৎপাদন বৃদ্ধিতে তানভির সাহেবের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ ট্রেনিং ও প্রুনিং অতীব জরুরি।
উদ্দীপকের আলোকে তানভিরের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

তানভির সাহেব সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা পরিবেশ সংরক্ষণ, আর্থিক লাভ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজের গ্রামের জমিতে কাঠ ও ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে মাটি ক্ষয় রোধ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার লাগানো কাঠের গাছগুলো পূর্ণ বয়সে পৌঁছানোর আগেই ছাঁটাই করার ফলে গাছের কাঠ সোজা, মোটা মানসম্মত হয়ে ওঠে। এতে কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়ে এবং ভবিষ্যতে কাঠ বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আবার প্রুনিং তথা ফলজ গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল নিয়মিত ছাঁটাই করার মাধ্যমে গাছ স্বাস্থ্যকর থাকে এবং গাছে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস প্রবাহিত হয়। ফলে গাছে বেশি ফুল আসে, ফল ধারণের হার বাড়ে এবং ফলের আকার, রং ও স্বাদে গুণগত মান নিশ্চিত হয়। এছাড়া রোগবালাইয়ের সংক্রমণ কমে গিয়ে গাছ দীর্ঘস্থায়ী ও উৎপাদনশীল হয়। তানভির সাহেবের এই কর্মকান্ড শুধু তার নিজের নয়, তার আশপাশের মানুষকেও সামাজিক বনায়নের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এতে করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়। তাই সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, তানভির সাহেবের গাছ রোপণ ও পরিচর্যার প্রতিটি পদক্ষেপ সময়োপযোগী, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

বৃক্ষের ড্রেসিং কী?

উত্তর

বৃক্ষের কান্ড, শাখা ও প্রশাখার ক্ষতস্থানের ছত্রাকসহ পচনশীল পদার্থ অপসারণ করে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধক লাগিয়ে দেওয়াই হলো বৃক্ষের ড্রেসিং।
কৃষিমেলার আয়োজন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যে কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়- ১. কৃষি উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা। ২. উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা। ৩. সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান দেওয়া। ৪. ফলমূল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক কৌশল ও পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুইটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুটি হলো যথাক্রমে পাহাড়ি বন ও ম্যানগ্রোভ বন। নিচে বন দুটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো- ১. পাহাড়ি বন উঁচু, পাহাড় এলাকায় জন্মানো বন। অন্যদিকে ম্যানগ্রোভ বন সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু ও মাঝারি নিচু লোনা জমিতে জন্মানো বন। ২. পাহাড়ি বন দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ম্যানগ্রোভ বন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মূল ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩. পাহাড়ি বনের আয়তন ১৩ লক্ষ হেক্টর। ম্যানগ্রোভ বনের আয়তন ৮.১ লক্ষ হেক্টর। ৪. পাহাড়ি বনের প্রধান বৃক্ষ গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, চম্পা, সেগুন, সিভিট ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি, পশুর, গরান, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা, বাইন ইত্যাদি। ৫. পাহাড়ি বনের প্রাণীদের মধ্যে হাতি, বানর, সাপ, শূকর, বনমুরগি, ভাল্লুক, শিয়াল ইত্যাদি প্রধান। ম্যানগ্রোভ বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, হরিণ, বানর, অজগর সাপ, পাখি ইত্যাদি পাওয়া যায়। ৬. পাহাড়ি বনে অল্প পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়। ম্যানগ্রোভবনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়।
বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে 'CC^{\prime} চিহ্নিত বনটি কীভাবে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে 'CC^{\prime} হলো ম্যানগ্রোভ বা লোনাপানির বন বা সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে সুন্দরবন যেভাবে ভূমিকা রাখে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১. সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এখানে বাঘ, জলহস্তী, বন বিড়াল, এবং বিপুল পরিমাণ নোঙরপ্রাণী ও জলজ পাখি বসবাস করে। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২. ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে "World Heritage Site" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মানে সুন্দরবন শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্যই নয়, বৈশ্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৩. সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার জন্য প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক পরিবেশগত স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। ৪. ম্যানগ্রোভ বন কার্বন ও অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস শোষণ করে। সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করে। ৫. সুন্দরবন গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ক্ষেত্র। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার মাধ্যমে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের শিক্ষামূলক গুরুত্ব বৃদ্ধি করে। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এর সংরক্ষণ প্রজাতি সংরক্ষণ, জলবায়ু সুরক্ষা, শিক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

বৃক্ষের ড্রেসিং কী?

উত্তর

বৃক্ষের কান্ড, শাখা ও প্রশাখার ক্ষতস্থানের ছত্রাকসহ পচনশীল পদার্থ অপসারণ করে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধক লাগিয়ে দেওয়াই হলো বৃক্ষের ড্রেসিং।
কৃষিমেলার আয়োজন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যে কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়- ১. কৃষি উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা। ২. উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা। ৩. সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান দেওয়া। ৪. ফলমূল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক কৌশল ও পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুইটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুটি হলো যথাক্রমে পাহাড়ি বন ও ম্যানগ্রোভ বন। নিচে বন দুটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো- ১. পাহাড়ি বন উঁচু, পাহাড় এলাকায় জন্মানো বন। অন্যদিকে ম্যানগ্রোভ বন সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু ও মাঝারি নিচু লোনা জমিতে জন্মানো বন। ২. পাহাড়ি বন দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ম্যানগ্রোভ বন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মূল ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩. পাহাড়ি বনের আয়তন ১৩ লক্ষ হেক্টর। ম্যানগ্রোভ বনের আয়তন ৮.১ লক্ষ হেক্টর। ৪. পাহাড়ি বনের প্রধান বৃক্ষ গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, চম্পা, সেগুন, সিভিট ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি, পশুর, গরান, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা, বাইন ইত্যাদি। ৫. পাহাড়ি বনের প্রাণীদের মধ্যে হাতি, বানর, সাপ, শূকর, বনমুরগি, ভাল্লুক, শিয়াল ইত্যাদি প্রধান। ম্যানগ্রোভ বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, হরিণ, বানর, অজগর সাপ, পাখি ইত্যাদি পাওয়া যায়। ৬. পাহাড়ি বনে অল্প পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়। ম্যানগ্রোভবনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়।
বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে 'CC^{\prime} চিহ্নিত বনটি কীভাবে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে 'CC^{\prime} হলো ম্যানগ্রোভ বা লোনাপানির বন বা সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে সুন্দরবন যেভাবে ভূমিকা রাখে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১. সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এখানে বাঘ, জলহস্তী, বন বিড়াল, এবং বিপুল পরিমাণ নোঙরপ্রাণী ও জলজ পাখি বসবাস করে। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২. ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে "World Heritage Site" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মানে সুন্দরবন শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্যই নয়, বৈশ্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৩. সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার জন্য প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক পরিবেশগত স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। ৪. ম্যানগ্রোভ বন কার্বন ও অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস শোষণ করে। সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করে। ৫. সুন্দরবন গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ক্ষেত্র। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার মাধ্যমে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের শিক্ষামূলক গুরুত্ব বৃদ্ধি করে। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এর সংরক্ষণ প্রজাতি সংরক্ষণ, জলবায়ু সুরক্ষা, শিক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

শাওন ও দুলু মিয়া বকুলতলা গ্রামে 'তারুণ্যের আলো' সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছে। তারা গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও দুঃস্থ নারীদের সংগঠিত করে বনবিভাগের সাথে সমঝোতা চুক্তি করে ২০ কিলোমিটার পাকা সড়কের পাশে আকাশমণি, রেইনট্রি, শিশু ও নিম গাছ লাগায়।

Dhaka · 2025

কৃষিবন কী?

উত্তর

মাঠ ফসলের মাঝে মাঝে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ লাগিয়ে যে বনায়ন করা হয় তাই কৃষিবন।
বৃক্ষের ট্রেনিং-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

কোনো গাছের সঠিক আকার ও সুগঠিত কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থাৎ গাছের কাঠামো সুন্দর ও সাবলীল করার উদ্দেশ্যে সে গাছের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করাকে বৃক্ষের ট্রেনিং বলা হয়। গাছের ব্যবহারযোগ্য কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য বৃক্ষের ট্রেনিং একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ট্রেনিং গাছকে সুঠাম ও সুন্দর কাঠামো দান করে। ট্রেনিংকৃত গাছ ঝড় তুফানে সহজে ভেঙে পড়ে না এবং গাছের আকার আকৃতি ভালো হয়। গাছের প্রধান কাণ্ড মোটা ও সোজা হয়, ফলে উন্নত লগ পাওয়া যায়। সুতরাং, আসবাব কাঠ উৎপাদনের লক্ষ্যে বৃক্ষের ট্রেনিং-এর গুরুত্ব অপরিসীম।
"তারুণ্যের আলো সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা" কী ধরনের বনায়ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়? উক্ত বনায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে "তারুণ্যের আলো সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা”, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়। নিচে সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো- বাংলাদেশে সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সামাজিক বনায়ন গ্রামের জনগণকে বনায়ন কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। ফলে জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন হয়। ক্ষয়িষ্ণু বনজ সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সার্বিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে। সবুজ গাছপালার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে। কৃষিবন প্রযুক্তি প্রবর্তনের মাধ্যমে ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে। পতিত অনাবাদি ও প্রান্তিক জমির যথাযথ ব্যবহার হয় এবং ভূমির ক্ষয়রোধসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে রক্ষা করে। অতএব, সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনস্বীকার্য।
বকুলতলার জনগোষ্ঠীর বনায়ন কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বকুলতলা গ্রামে সড়কের পাশে আকাশমণি, রেইনট্রি, শিশু ও নিম গাছ লাগানো একটি সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম। এ বনায়ন কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বহুমুখী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- সামাজিক বনায়ন হলো জনসাধারণ বিশেষ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বাস্তুতান্ত্রিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে পরিচালিত বনায়ন। এই বনায়ন কার্যক্রম এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আয়বর্ধক কর্মকান্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। গাছের চারা রোপণ, পরিচর্যা, পানি সরবরাহ, আগাছা পরিষ্কার এবং নিরাপত্তা রক্ষার কাজে স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারে, যার ফলে স্বল্প ব্যয়ে আয় করার পথ তৈরি হয়। গাছ বড় হলে কাঠ, পাতা ও ফল থেকে আয় করে দারিদ্র্য হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া, এই বনায়নের মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। নার্সারি পরিচালনা, চারা বিতরণ, রোপণ এবং কাঠ প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজে বহু মানুষ জড়িত হতে পারে। ফলে যুব সমাজের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হয়। এমনকি, সামাজিক বনায়ন পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আকাশমণি, রেইনট্রি, শিশু ও নিম গাছ দ্রুত বর্ধনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রজাতি। এগুলো ধুলাবালি শোষণ করে, বাতাস বিশুদ্ধ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড 'শোম্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হয়। এছাড়া, এসব গাছ রাস্তার পাশে ছায়া প্রদান করে এবং ভূমিক্ষয় রোধ করে। সবশেষে বলা যায়, বকুলতলা গ্রামের সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও পরিবেশের ওপর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

শাওন ও দুলু মিয়া বকুলতলা গ্রামে 'তারুণ্যের আলো' সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছে। তারা গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও দুঃস্থ নারীদের সংগঠিত করে বনবিভাগের সাথে সমঝোতা চুক্তি করে ২০ কিলোমিটার পাকা সড়কের পাশে আকাশমণি, রেইনট্রি, শিশু ও নিম গাছ লাগায়।

Dhaka · 2025

কৃষিবন কী?

উত্তর

মাঠ ফসলের মাঝে মাঝে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ লাগিয়ে যে বনায়ন করা হয় তাই কৃষিবন।
বৃক্ষের ট্রেনিং-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

কোনো গাছের সঠিক আকার ও সুগঠিত কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থাৎ গাছের কাঠামো সুন্দর ও সাবলীল করার উদ্দেশ্যে সে গাছের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করাকে বৃক্ষের ট্রেনিং বলা হয়। গাছের ব্যবহারযোগ্য কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য বৃক্ষের ট্রেনিং একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ট্রেনিং গাছকে সুঠাম ও সুন্দর কাঠামো দান করে। ট্রেনিংকৃত গাছ ঝড় তুফানে সহজে ভেঙে পড়ে না এবং গাছের আকার আকৃতি ভালো হয়। গাছের প্রধান কাণ্ড মোটা ও সোজা হয়, ফলে উন্নত লগ পাওয়া যায়। সুতরাং, আসবাব কাঠ উৎপাদনের লক্ষ্যে বৃক্ষের ট্রেনিং-এর গুরুত্ব অপরিসীম।
"তারুণ্যের আলো সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা" কী ধরনের বনায়ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়? উক্ত বনায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে "তারুণ্যের আলো সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা”, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়। নিচে সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো- বাংলাদেশে সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সামাজিক বনায়ন গ্রামের জনগণকে বনায়ন কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। ফলে জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন হয়। ক্ষয়িষ্ণু বনজ সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সার্বিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে। সবুজ গাছপালার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে। কৃষিবন প্রযুক্তি প্রবর্তনের মাধ্যমে ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে। পতিত অনাবাদি ও প্রান্তিক জমির যথাযথ ব্যবহার হয় এবং ভূমির ক্ষয়রোধসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে রক্ষা করে। অতএব, সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনস্বীকার্য।
বকুলতলার জনগোষ্ঠীর বনায়ন কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বকুলতলা গ্রামে সড়কের পাশে আকাশমণি, রেইনট্রি, শিশু ও নিম গাছ লাগানো একটি সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম। এ বনায়ন কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বহুমুখী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- সামাজিক বনায়ন হলো জনসাধারণ বিশেষ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বাস্তুতান্ত্রিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে পরিচালিত বনায়ন। এই বনায়ন কার্যক্রম এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আয়বর্ধক কর্মকান্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। গাছের চারা রোপণ, পরিচর্যা, পানি সরবরাহ, আগাছা পরিষ্কার এবং নিরাপত্তা রক্ষার কাজে স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারে, যার ফলে স্বল্প ব্যয়ে আয় করার পথ তৈরি হয়। গাছ বড় হলে কাঠ, পাতা ও ফল থেকে আয় করে দারিদ্র্য হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া, এই বনায়নের মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। নার্সারি পরিচালনা, চারা বিতরণ, রোপণ এবং কাঠ প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজে বহু মানুষ জড়িত হতে পারে। ফলে যুব সমাজের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হয়। এমনকি, সামাজিক বনায়ন পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আকাশমণি, রেইনট্রি, শিশু ও নিম গাছ দ্রুত বর্ধনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রজাতি। এগুলো ধুলাবালি শোষণ করে, বাতাস বিশুদ্ধ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড 'শোম্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হয়। এছাড়া, এসব গাছ রাস্তার পাশে ছায়া প্রদান করে এবং ভূমিক্ষয় রোধ করে। সবশেষে বলা যায়, বকুলতলা গ্রামের সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও পরিবেশের ওপর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Dhaka · 2025

ম্যানগ্রোভ বন কী?

উত্তর

ম্যানগ্রোভ বন হলো এমন একটি বিশেষ ধরনের উপকূলীয় বন, যেখানে লোনাপানির সহনশীল গাছপালা জন্মায়। এই বন সাধারণত সমুদ্রের তীর, মোহনা ও জোয়ার-ভাটার এলাকায় গড়ে ওঠে।
বনের পরিবেশগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বনের পরিবেশগত গুরুত্ব নিম্নরূপ- ১. আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। ২. অক্সিজেন প্রদান ও দূষিত গ্যাস শোষণ করে। ৩. মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরতা বৃদ্ধি করে।" ৪. বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'XX^{\prime} কী এবং এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত 'XX^{\prime} হলো প্রাকৃতিক বন। মানুষের প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়াই প্রাকৃতিক নিয়মে অর্থাৎ প্রাকৃতিক ক্রিয়াকলাপের ফলে যে বন গড়ে ওঠে তাকে প্রাকৃতিক বন বলা হয়। এর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ- ১. প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই গাছপালা জন্মে ও বিস্তার লাভ করে। ২. পরিকল্পিত নয়, বরং প্রকৃতির নিয়মে এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠে। ৩. বিভিন্ন প্রজাতির উঁচু, মাঝারি ও নিচু স্তরের গাছপালা একসঙ্গে থাকে। ৪. পাখি, বন্যপ্রাণী, কীটপতঙ্গসহ নানা জীবজন্তুর আবাসস্থল। ৫. তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ৬. শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ করে। ৭. গাছপালা অক্সিজেন দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ৮. বীজ পড়ে নিজে নিজে চারা গজায় ও বড় হয়।
উদ্দীপকের আলোকে 'XX^{\prime} ও কৃত্রিম বনের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'XX^{\prime} হলো বাংলাদেশের বনের অন্তর্ভুক্ত প্রাকৃতিক বন। নিচে প্রাকৃতিক বন ও কৃত্রিম বনের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো-যে বন প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে উঠেছে তাকে প্রাকৃতিক বন বলে। অন্যদিকে মানুষের দ্বারা সৃষ্ট বনকে কৃত্রিম বন বলে। প্রকৃতির প্রয়োজনে হাজার হাজার বছরের ব্যবধানে প্রাকৃতিক বন গড়ে ওঠে। অন্যদিকে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, বিভিন্ন দ্রব্যাদি পাওয়ার জন্য কৃত্রিম বন গড়ে তোলে। প্রাকৃতিক বনের স্থায়িত্ব অনেক বেশি কিন্তু কৃত্রিম বনের স্থায়িত্ব কম। প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্যাদি ও গাছপালা পাওয়া যায় অন্যদিকে কৃত্রিম বনগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট গাছপালা ও উদ্দেশ্যের হয়ে থাকে। পাহাড়ি বন, সমতলভূমির বন বা শালবন, ম্যানগ্রোভ বন প্রাকৃতিক বন। সামাজিক বন ও কমিউনিটি বন, প্রাতিষ্ঠানিক বন ও কৃষি বন, সড়ক-বাঁধ বন, বসত বন ইত্যাদি কৃত্রিম বন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Dhaka · 2025

ম্যানগ্রোভ বন কী?

উত্তর

ম্যানগ্রোভ বন হলো এমন একটি বিশেষ ধরনের উপকূলীয় বন, যেখানে লোনাপানির সহনশীল গাছপালা জন্মায়। এই বন সাধারণত সমুদ্রের তীর, মোহনা ও জোয়ার-ভাটার এলাকায় গড়ে ওঠে।
বনের পরিবেশগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বনের পরিবেশগত গুরুত্ব নিম্নরূপ- ১. আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। ২. অক্সিজেন প্রদান ও দূষিত গ্যাস শোষণ করে। ৩. মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরতা বৃদ্ধি করে।" ৪. বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'XX^{\prime} কী এবং এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত 'XX^{\prime} হলো প্রাকৃতিক বন। মানুষের প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়াই প্রাকৃতিক নিয়মে অর্থাৎ প্রাকৃতিক ক্রিয়াকলাপের ফলে যে বন গড়ে ওঠে তাকে প্রাকৃতিক বন বলা হয়। এর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ- ১. প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই গাছপালা জন্মে ও বিস্তার লাভ করে। ২. পরিকল্পিত নয়, বরং প্রকৃতির নিয়মে এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠে। ৩. বিভিন্ন প্রজাতির উঁচু, মাঝারি ও নিচু স্তরের গাছপালা একসঙ্গে থাকে। ৪. পাখি, বন্যপ্রাণী, কীটপতঙ্গসহ নানা জীবজন্তুর আবাসস্থল। ৫. তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ৬. শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ করে। ৭. গাছপালা অক্সিজেন দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ৮. বীজ পড়ে নিজে নিজে চারা গজায় ও বড় হয়।
উদ্দীপকের আলোকে 'XX^{\prime} ও কৃত্রিম বনের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'XX^{\prime} হলো বাংলাদেশের বনের অন্তর্ভুক্ত প্রাকৃতিক বন। নিচে প্রাকৃতিক বন ও কৃত্রিম বনের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো-যে বন প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে উঠেছে তাকে প্রাকৃতিক বন বলে। অন্যদিকে মানুষের দ্বারা সৃষ্ট বনকে কৃত্রিম বন বলে। প্রকৃতির প্রয়োজনে হাজার হাজার বছরের ব্যবধানে প্রাকৃতিক বন গড়ে ওঠে। অন্যদিকে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, বিভিন্ন দ্রব্যাদি পাওয়ার জন্য কৃত্রিম বন গড়ে তোলে। প্রাকৃতিক বনের স্থায়িত্ব অনেক বেশি কিন্তু কৃত্রিম বনের স্থায়িত্ব কম। প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্যাদি ও গাছপালা পাওয়া যায় অন্যদিকে কৃত্রিম বনগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট গাছপালা ও উদ্দেশ্যের হয়ে থাকে। পাহাড়ি বন, সমতলভূমির বন বা শালবন, ম্যানগ্রোভ বন প্রাকৃতিক বন। সামাজিক বন ও কমিউনিটি বন, প্রাতিষ্ঠানিক বন ও কৃষি বন, সড়ক-বাঁধ বন, বসত বন ইত্যাদি কৃত্রিম বন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তানভির সাহেব বনায়ন কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের গ্রামের জমিতে বিভিন্ন ধরনের কাঠের ও ফলের গাছ লাগান। তিনি কাঠের গাছ পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পূর্বে ছাঁটাই করেন এবং ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করেন। এর ফলে তার গাছের ফুল, ফলধারণ ও ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

Jessore · 2025

বন কী?

উত্তর

বন বলতে বৃহৎ আকৃতির বৃক্ষরাজি দ্বারা আচ্ছাদিত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়, যেখানে প্রাকৃতিক বন্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য জীব বসবাস করতে পারে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ- ১. গাছ ও প্রাণীর জন্মস্থান, বাসস্থান ও বিচরণের স্থান হলো বন। ২. গাছ ও প্রাণীর বংশবিস্তারের স্থান হলো বন। ৩. গাছ ও প্রাণী বিলুপ্তি প্রতিহত করে বন। ৪. বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের উৎপত্তি ও সংরক্ষণের স্থান হলো বন। ৫. বিভিন্ন পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গের আশ্রয়স্থল এবং প্রজননের উপযুক্ত স্থান হলো বন।
উদ্দীপকে তানভির সাহের তার গাছগুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তানভির সাহেব বাগানে যে কর্মকাণ্ড করেছেন তা হচ্ছে ট্রেনিং এবং প্রুনিং। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- বৃক্ষের আকার-আকৃতি ও অঙ্গ-বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় রেখে কাঠামো সুন্দর ও সাবলীল করার জন্য শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করাকে বৃক্ষের ট্রেনিং বলে। ট্রেনিং এর মাধ্যমে বৃক্ষের কাণ্ডের নিচ থেকে কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, বৃক্ষের আকার-আকৃতি সুন্দর হয়, বৃক্ষের কাঠামো শক্ত হয়। আর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা, মূল, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির অপ্রয়োজনীয় অংশ ছাঁটাই করাকে প্রুনিং বলে। প্রুনিং এর ফলে বৃক্ষের অঙ্গজ বৃদ্ধি, পুষ্পায়ন, ফল ধারণ, ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। ফল সংগ্রহের পরে ডালপালা ছাঁটাই করলে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। ফলে নতুন কুশি গজায়। নতুন নতুন কুশিতে ফুল ফল ধরে। প্রুনিং এর ফলে রোগাক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করায় রোগের আক্রমণ হয় না। ফুল, ফল উৎপাদন বাড়ে। পরিশেষে বলা যায়, বৃক্ষের কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি, আকার-আকৃতি ঠিক রাখা, উৎপাদন বৃদ্ধিতে তানভির সাহেবের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ ট্রেনিং ও প্রুনিং অতীব জরুরি।
উদ্দীপকের আলোকে তানভিরের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

তানভির সাহেব সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা পরিবেশ সংরক্ষণ, আর্থিক লাভ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজের গ্রামের জমিতে কাঠ ও ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে মাটি ক্ষয় রোধ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার লাগানো কাঠের গাছগুলো পূর্ণ বয়সে পৌঁছানোর আগেই ছাঁটাই করার ফলে গাছের কাঠ সোজা, মোটা মানসম্মত হয়ে ওঠে। এতে কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়ে এবং ভবিষ্যতে কাঠ বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আবার প্রুনিং তথা ফলজ গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল নিয়মিত ছাঁটাই করার মাধ্যমে গাছ স্বাস্থ্যকর থাকে এবং গাছে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস প্রবাহিত হয়। ফলে গাছে বেশি ফুল আসে, ফল ধারণের হার বাড়ে এবং ফলের আকার, রং ও স্বাদে গুণগত মান নিশ্চিত হয়। এছাড়া রোগবালাইয়ের সংক্রমণ কমে গিয়ে গাছ দীর্ঘস্থায়ী ও উৎপাদনশীল হয়। তানভির সাহেবের এই কর্মকান্ড শুধু তার নিজের নয়, তার আশপাশের মানুষকেও সামাজিক বনায়নের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এতে করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়। তাই সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, তানভির সাহেবের গাছ রোপণ ও পরিচর্যার প্রতিটি পদক্ষেপ সময়োপযোগী, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

তানভির সাহেব বনায়ন কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের গ্রামের জমিতে বিভিন্ন ধরনের কাঠের ও ফলের গাছ লাগান। তিনি কাঠের গাছ পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পূর্বে ছাঁটাই করেন এবং ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করেন। এর ফলে তার গাছের ফুল, ফলধারণ ও ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

Jessore · 2025

বন কী?

উত্তর

বন বলতে বৃহৎ আকৃতির বৃক্ষরাজি দ্বারা আচ্ছাদিত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়, যেখানে প্রাকৃতিক বন্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য জীব বসবাস করতে পারে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ- ১. গাছ ও প্রাণীর জন্মস্থান, বাসস্থান ও বিচরণের স্থান হলো বন। ২. গাছ ও প্রাণীর বংশবিস্তারের স্থান হলো বন। ৩. গাছ ও প্রাণী বিলুপ্তি প্রতিহত করে বন। ৪. বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের উৎপত্তি ও সংরক্ষণের স্থান হলো বন। ৫. বিভিন্ন পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গের আশ্রয়স্থল এবং প্রজননের উপযুক্ত স্থান হলো বন।
উদ্দীপকে তানভির সাহের তার গাছগুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে তানভির সাহেব বাগানে যে কর্মকাণ্ড করেছেন তা হচ্ছে ট্রেনিং এবং প্রুনিং। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- বৃক্ষের আকার-আকৃতি ও অঙ্গ-বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় রেখে কাঠামো সুন্দর ও সাবলীল করার জন্য শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করাকে বৃক্ষের ট্রেনিং বলে। ট্রেনিং এর মাধ্যমে বৃক্ষের কাণ্ডের নিচ থেকে কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, বৃক্ষের আকার-আকৃতি সুন্দর হয়, বৃক্ষের কাঠামো শক্ত হয়। আর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা, মূল, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির অপ্রয়োজনীয় অংশ ছাঁটাই করাকে প্রুনিং বলে। প্রুনিং এর ফলে বৃক্ষের অঙ্গজ বৃদ্ধি, পুষ্পায়ন, ফল ধারণ, ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। ফল সংগ্রহের পরে ডালপালা ছাঁটাই করলে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। ফলে নতুন কুশি গজায়। নতুন নতুন কুশিতে ফুল ফল ধরে। প্রুনিং এর ফলে রোগাক্রান্ত শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করায় রোগের আক্রমণ হয় না। ফুল, ফল উৎপাদন বাড়ে। পরিশেষে বলা যায়, বৃক্ষের কাঠের পরিমাণ বৃদ্ধি, আকার-আকৃতি ঠিক রাখা, উৎপাদন বৃদ্ধিতে তানভির সাহেবের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ ট্রেনিং ও প্রুনিং অতীব জরুরি।
উদ্দীপকের আলোকে তানভিরের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

তানভির সাহেব সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা পরিবেশ সংরক্ষণ, আর্থিক লাভ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজের গ্রামের জমিতে কাঠ ও ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে মাটি ক্ষয় রোধ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার লাগানো কাঠের গাছগুলো পূর্ণ বয়সে পৌঁছানোর আগেই ছাঁটাই করার ফলে গাছের কাঠ সোজা, মোটা মানসম্মত হয়ে ওঠে। এতে কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়ে এবং ভবিষ্যতে কাঠ বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আবার প্রুনিং তথা ফলজ গাছের পাতা ও রোগাক্রান্ত ডাল নিয়মিত ছাঁটাই করার মাধ্যমে গাছ স্বাস্থ্যকর থাকে এবং গাছে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস প্রবাহিত হয়। ফলে গাছে বেশি ফুল আসে, ফল ধারণের হার বাড়ে এবং ফলের আকার, রং ও স্বাদে গুণগত মান নিশ্চিত হয়। এছাড়া রোগবালাইয়ের সংক্রমণ কমে গিয়ে গাছ দীর্ঘস্থায়ী ও উৎপাদনশীল হয়। তানভির সাহেবের এই কর্মকান্ড শুধু তার নিজের নয়, তার আশপাশের মানুষকেও সামাজিক বনায়নের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এতে করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়। তাই সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, তানভির সাহেবের গাছ রোপণ ও পরিচর্যার প্রতিটি পদক্ষেপ সময়োপযোগী, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

বৃক্ষের ড্রেসিং কী?

উত্তর

বৃক্ষের কান্ড, শাখা ও প্রশাখার ক্ষতস্থানের ছত্রাকসহ পচনশীল পদার্থ অপসারণ করে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধক লাগিয়ে দেওয়াই হলো বৃক্ষের ড্রেসিং।
কৃষিমেলার আয়োজন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যে কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়- ১. কৃষি উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা। ২. উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা। ৩. সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান দেওয়া। ৪. ফলমূল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক কৌশল ও পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুইটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুটি হলো যথাক্রমে পাহাড়ি বন ও ম্যানগ্রোভ বন। নিচে বন দুটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো- ১. পাহাড়ি বন উঁচু, পাহাড় এলাকায় জন্মানো বন। অন্যদিকে ম্যানগ্রোভ বন সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু ও মাঝারি নিচু লোনা জমিতে জন্মানো বন। ২. পাহাড়ি বন দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ম্যানগ্রোভ বন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মূল ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩. পাহাড়ি বনের আয়তন ১৩ লক্ষ হেক্টর। ম্যানগ্রোভ বনের আয়তন ৮.১ লক্ষ হেক্টর। ৪. পাহাড়ি বনের প্রধান বৃক্ষ গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, চম্পা, সেগুন, সিভিট ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি, পশুর, গরান, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা, বাইন ইত্যাদি। ৫. পাহাড়ি বনের প্রাণীদের মধ্যে হাতি, বানর, সাপ, শূকর, বনমুরগি, ভাল্লুক, শিয়াল ইত্যাদি প্রধান। ম্যানগ্রোভ বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, হরিণ, বানর, অজগর সাপ, পাখি ইত্যাদি পাওয়া যায়। ৬. পাহাড়ি বনে অল্প পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়। ম্যানগ্রোভবনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়।
বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে 'CC^{\prime} চিহ্নিত বনটি কীভাবে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে 'CC^{\prime} হলো ম্যানগ্রোভ বা লোনাপানির বন বা সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে সুন্দরবন যেভাবে ভূমিকা রাখে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১. সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এখানে বাঘ, জলহস্তী, বন বিড়াল, এবং বিপুল পরিমাণ নোঙরপ্রাণী ও জলজ পাখি বসবাস করে। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২. ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে "World Heritage Site" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মানে সুন্দরবন শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্যই নয়, বৈশ্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৩. সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার জন্য প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক পরিবেশগত স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। ৪. ম্যানগ্রোভ বন কার্বন ও অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস শোষণ করে। সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করে। ৫. সুন্দরবন গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ক্ষেত্র। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার মাধ্যমে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের শিক্ষামূলক গুরুত্ব বৃদ্ধি করে। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এর সংরক্ষণ প্রজাতি সংরক্ষণ, জলবায়ু সুরক্ষা, শিক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCকৃষি শিক্ষা ২য় পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: question image

Jessore · 2025

বৃক্ষের ড্রেসিং কী?

উত্তর

বৃক্ষের কান্ড, শাখা ও প্রশাখার ক্ষতস্থানের ছত্রাকসহ পচনশীল পদার্থ অপসারণ করে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধক লাগিয়ে দেওয়াই হলো বৃক্ষের ড্রেসিং।
কৃষিমেলার আয়োজন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যে কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়- ১. কৃষি উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা। ২. উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা। ৩. সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান দেওয়া। ৪. ফলমূল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক কৌশল ও পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুইটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত ছকে 'AA^{\prime} ও 'CC^{\prime} চিহ্নিত বন দুটি হলো যথাক্রমে পাহাড়ি বন ও ম্যানগ্রোভ বন। নিচে বন দুটির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো- ১. পাহাড়ি বন উঁচু, পাহাড় এলাকায় জন্মানো বন। অন্যদিকে ম্যানগ্রোভ বন সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু ও মাঝারি নিচু লোনা জমিতে জন্মানো বন। ২. পাহাড়ি বন দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ম্যানগ্রোভ বন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মূল ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩. পাহাড়ি বনের আয়তন ১৩ লক্ষ হেক্টর। ম্যানগ্রোভ বনের আয়তন ৮.১ লক্ষ হেক্টর। ৪. পাহাড়ি বনের প্রধান বৃক্ষ গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, চম্পা, সেগুন, সিভিট ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি, পশুর, গরান, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা, বাইন ইত্যাদি। ৫. পাহাড়ি বনের প্রাণীদের মধ্যে হাতি, বানর, সাপ, শূকর, বনমুরগি, ভাল্লুক, শিয়াল ইত্যাদি প্রধান। ম্যানগ্রোভ বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, হরিণ, বানর, অজগর সাপ, পাখি ইত্যাদি পাওয়া যায়। ৬. পাহাড়ি বনে অল্প পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়। ম্যানগ্রোভবনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়।
বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে 'CC^{\prime} চিহ্নিত বনটি কীভাবে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে 'CC^{\prime} হলো ম্যানগ্রোভ বা লোনাপানির বন বা সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে সুন্দরবন যেভাবে ভূমিকা রাখে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১. সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এখানে বাঘ, জলহস্তী, বন বিড়াল, এবং বিপুল পরিমাণ নোঙরপ্রাণী ও জলজ পাখি বসবাস করে। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২. ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে "World Heritage Site" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মানে সুন্দরবন শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্যই নয়, বৈশ্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৩. সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার জন্য প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক পরিবেশগত স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। ৪. ম্যানগ্রোভ বন কার্বন ও অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস শোষণ করে। সুন্দরবনের সংরক্ষণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করে। ৫. সুন্দরবন গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ক্ষেত্র। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার মাধ্যমে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের শিক্ষামূলক গুরুত্ব বৃদ্ধি করে। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এর সংরক্ষণ প্রজাতি সংরক্ষণ, জলবায়ু সুরক্ষা, শিক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো