উদ্দীপকে উল্লেখিত বনটি হলো ম্যানগ্রোভ বন যা সুন্দরবন নামে পরিচিত। এ বন সম্পর্কে বন কর্মকর্তার উক্তিটি ছিল, এই বনটি জৈববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। নিচে উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের সক্রিয় উপস্থিতি, বিস্তৃতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানকে জীববৈচিত্র্য বলে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বনটি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করছে। এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী। যা অনান্য অঞ্চলে বিরল। এছাড়া সুন্দরবনে গেওয়া, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, ওড়া, গোলপাতা, হোগলা, হেতাল, কেয়া ইত্যাদি উদ্ভিদ জন্মে। এ বনে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ, বানর, হরিণ, হাঙ্গর, অজগর ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ পাওয়া যায়। 'বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছর ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসে এ অঞ্চল আক্রান্ত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে সুন্দরবন এদেশের জন্য একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। বনের বৃক্ষরাজি আকস্মিক ঝড়, বন্যা/জলোচ্ছ্বাসের গতি কমিয়ে ক্ষয়-ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে দেয় ফলে জনবসতি, ক্ষেত খামার রক্ষা পায়। এছাড়া বনটি অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ বৃষ্টিপাত ঘটানো, তাপমাত্রা কমানো, গ্রিন হাউজ গ্যাস শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে।
সুতরাং উপরের আলোচনা হতে বুঝা যায় যে, উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটি অত্যন্ত যথাযথ।