উদ্দীপকে চিত্রে A প্রদর্শিত বনটি হলো প্রাকৃতিক বন। প্রাকৃতিক বনের বিলুপ্ত প্রায় জীব সংরক্ষণে আমার মতামত নিচে উপস্থপন করা হলো-
প্রাকৃতিক বন হলো এমন এক ধরনের বন যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে এবং সেখানে বাস্তুতন্ত্রের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এই বন বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, প্রাণী, পাখি, কীটপতঙ্গ এবং অণুজীবের আবাসস্থল। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু প্রাকৃতিক বন হচ্ছে সুন্দরবন, রেমা, কালেঙ্গা বন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, হিমছড়ি ও ইনানী বন, মধুপুরের গড় বন ইত্যাদি। এসব বনে বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু ও পশুপাখি ছিল যা কালের বিবর্তনে আজ বিলুপ্ত প্রায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য খাদ্য, আবাসস্থল, নির্মাণ কাজ, শিল্প-কারখানা স্থাপন প্রভৃতি কারণে আজ এসব বন এবং বনের জীবদের অস্তিত্ব সংকটাপূর্ণ। তাই এসব বিলুপ্ত প্রায় জীব সংরক্ষণ.. এখন সময়ের দাবি। এজন্য বন সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন ও তার কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল তথা অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে হবে। সংরক্ষিত পরিবেশে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটাতে হবে, অবৈধ শিকার ও পাচার রোধ করতে হবে, বন সংরক্ষণ ও পুনঃউদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এমনকি বিলুপ্ত জীব সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, উপরোল্লিখিত পদক্ষেপেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করলে প্রাকৃতিক বনের বিলুপ্ত প্রায় জীব সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।