শাকসবজি সংরক্ষণের পূর্বে যেসকল বিষয়গুলো বিবেচনায় আনলে সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হবে নিম্নে সে বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো-
১. উপযুক্ত অবস্থায় সংগ্রহ: অতিরিক্ত কচি বা অতিরিক্ত বয়স্ক শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এতে নমনীয়তা ও আঁশালোভাব বাড়ে, যা খাদ্যোপযোগিতা কমিয়ে দেয়।
২. পরিষ্কার করা: শাকসবজি দ্রুত ঠাণ্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে এনে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ময়লা ও রোগজীবাণু মুক্ত করতে হবে। ভেজা অবস্থায় না রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত, বিবর্ণ বা নষ্ট অংশ বাদ দিতে হবে (যেমন- মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, পুঁইশাক, পটল, পালংশাক, কপি ইত্যাদি)।
৩. গ্রেডিং : আকার, আকৃতি, পুষ্টতা, রং ও ওজন অনুযায়ী শ্রেণিকরণ করতে হবে। অপুষ্ট, থেঁতলে যাওয়া বা রোগাক্রান্ত শাকসবজি সংরক্ষণ উপযোগী নয়। সঠিকভাবে গ্রেডিং করলে সংরক্ষণের সময়কাল বেড়ে যায়।
৪. ঠান্ডাকরণ: শাকসবজি সংগ্রহের পর ঠাণ্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে স্তূপ না করে বিছিয়ে রাখতে হবে। ঠান্ডা বাতাস, বরফ পানি, আংশিক বায়ুশূন্য ঘর বা ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে শীতল করা যায়, যা রোগজীবাণুর কার্যক্রম কমিয়ে সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫ . কিউরিং বা শুকানো: কন্দজাতীয় ফসল সংগ্রহের সময় ক্ষত হলে দ্রুত ঠাণ্ডা ও বাতাস চলাচলের পরিবেশে ২০° C তাপমাত্রায় ২-৩ দিন রাখতে হবে, যাতে ক্ষতস্থান শুকিয়ে যায়। মাঠে ২৮- ৩০° C তাপমাত্রায় ১২ দিন রাখলেও পচনের ঝুঁকি কমে। (যেম- আলু, কচু, পেঁয়াজ, মুলা ইত্যাদি)।
সুতরাং সংরক্ষণের পূর্বে পচনের ঝুঁকি কমিয়ে উক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখলে সংরক্ষণ ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।