উদ্দিপকে 'ক' চিত্রের প্রযুক্তিটি উদ্ভিদ প্রজনন ও উন্নতজাত উদ্ভাবনে টিস্যু কালচার পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। এই প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে উদ্ভিদ প্রজননের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ পদ্ধতি ব্যাপকভাবে বিভিন্ন উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে প্রজননবিদরা অনেক সাফল্যও অর্জন করেছেন।
টিস্যু কালচার, জীবপ্রযুক্তির একটি নতুন শাখা হলেও ইতোমধ্যে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদ প্রজনন, উন্নত উদ্ভিদ প্রকরণ উৎপাদন এবং মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রভূত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ নিয়ে বর্তমানে গবেষণা চলছে এবং এসব গবেষণালব্ধ ফলাফল মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই বিশেষ অবদান রাখতে শুরু করেছে।
এই প্রযুক্তিটি সোমাক্লোনাল ভিন্নতা এবংমেরিস্টেম কালচার এর জন্য অবশ্য প্রয়োজন । কেননা ,
কোষ আবাদ ও ক্যালাস টিস্যু আবাদ কৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন দৈহিক ভ্রূণ থেকে বীজ উৎপন্ন করা যায়। সোমাকোনাল ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে উন্নতজাত যেমন- Adhi নামক গম উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো আবাদি উদ্ভিদ কোষ বা টিস্যু হাতে সৃষ্ট প্রকরণকে বলে সোমাক্লোনাল ড্যারিয়েশন। এর মাধ্যমে উন্নত কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব উৎপন্ন করা যায় । সোমাকোনাল ভ্যারিয়েশন এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধী, পেস্টিসাইড প্রতিরোধী উদ্ভিদ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।
মেরিস্টেম কালচার টিস্যু কালচার পদ্ধতির আর একটি বিশেষ দিক। উদ্ভিদের শীর্ষমুকুলের অগ্রভাগের টিস্যুকে মেরিস্টেম বলে। মেরিস্টেম কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত চারাগাছ সাধারণত রোগমুক্ত হয়ে থাকে, কারণ মেরিস্টেম টিস্যুতে কোনো রোগ-জীবাণু থাকে না।
আবার, অল্প সময়ে অধিক চারা উৎপাদন টিস্যু কালচার পদ্ধতি প্রয়োগ করে কোনো একটি উদ্ভিদের সামান্য টিস্যু থেকে অল্প সময়ে অসংখ্য চারা উৎপাদন করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় চন্দ্রমল্লিকার একটি ছোট্ট অঙ্গজ টিস্যু থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ চারা উৎপাদন করা সম্ভব।
তাই বলা যায় 'ক' চিত্রের প্রযুক্তিটি বহুসংখ্যক চারা উৎপাদন, সোমাক্লোনাল ভিন্নতা এবং মেরিস্টেম কালচার এর জন্য অবশ্য প্রয়োজন উক্তিটি যথার্থ।