উদ্দীপকে উল্লেখিত পুরাতন দেয়ালে জন্মানো অপুষ্পক ও পক্ষল যৌগিক বিশিষ্ট উদ্ভিদটি হলো Pteris উদ্ভিদ। Pteris উদ্ভিদ সম্পর্কে শিক্ষক বললেন, এর বীজ না হলেও পত্রকের কিনারায় উৎপন্ন এক ধরনের রেণুর মাধ্যমে উদ্ভিদটি সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। নিচে শিক্ষকের এ বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হলো-
Pteris উদ্ভিদ স্পোরোফাইট রেণু বা স্পোর তৈরির মাধ্যমে অযৌন উপায়ে বংশবৃদ্ধি করে। গ্রীষ্মের শুরুতে পত্রকের নিম্নতলের কিনারা বরাবর রেণুস্থলী বা স্পোরাঞ্জিয়া উৎপন্ন হয়। স্পোরাঞ্জিয়াগুলো একত্রিত হয়ে একসারি অবিচ্ছিন্ন সোরাই উৎপন্ন করে, প্রতিটি সোরাস বাদামি বর্ণের ও বৃক্কাকার। যে টিস্যু থেকে স্পোরাঞ্জিয়া উৎপন্ন হয়
তাকে অমরা বলে। পত্রক বা পিনার কিনারা ভেতরের দিকে বেঁকে এসে সোরাইকে ঢেকে রাখে। ফলক প্রান্তের এ ঢাকনার ন্যায় অংশকে ফলস ইন্ডুসিয়াম বলে। সোরাই উৎপন্নকারী পাতাকে স্পোরোফিল বলে। প্রতিটি পরিণত স্পোরাঞ্জিয়াম ক্যাপসিউলের ন্যায় ও সবৃন্তক। বৃত্তটি বহুকোষী ও লম্বা। বৃত্তের মাথায় ক্যাপসিউল অবস্থিত।
ক্যাপসিউল, অ্যানুলাস ও স্টোমিয়াম এ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। ক্যাপসিউল প্রাচীরের পুরু আবরণকে অ্যানুলাস বলে। অ্যানুলাসের বিপরীত পার্শ্বে পাতলা কোষপ্রাচীর যুক্ত অংশকে স্টোমিয়াম বলে। স্পোরাঞ্জিয়ামে ক্যাপসিউলের ভেতরের স্পোরোজেনাস টিস্যুতে ১৬টি স্পোর মাতৃকোষ থাকে, স্পোর মাতৃকোষ ডিপ্লয়েড (2n)। স্পোর মাতৃকোষ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৪টি করে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর উৎপন্ন হয়। এভাবে একটি ক্যাপসুলে ৬৪টি স্পোর উৎপন্ন হয়ে থাকে। স্পোর উৎপাদনের মাধ্যমে স্পোরোফাইটিক জনুর পরিসমাপ্তি ঘটে। এভাবে উদ্ভিদটি বংশবিস্তার করে।