উদ্দীপকে মানব ভূগোলের কয়েকটি শাখা রাজনৈতিক ভূগোল, জনসংখ্যা ভূগোল, বসতি ভূগোল, অর্থনৈতিক ভূগোল, পরিবহন ভূগোল, সাংস্কৃতিক ভূগোল প্রভৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত শাখাসমূহ অধ্যয়নের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
মানব ভূগোল ভূগোলের একটি শাখা, যা মানুষের জীবনের সাথে সম্পর্কিত। এখানে মানব সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পৃথিবীর প্রায় সমগ্র ভূভাগ বিভিন্ন রাষ্ট্রের অন্তর্গত। প্রায় ৫/৬ বছর পূর্বে প্রথম নগর সভ্যতার পত্তন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই রাষ্ট্রের আকার, আয়তন, ভৌগোলিক অবস্থান, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, অধীনতা, রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাস, রাষ্ট্রের সম্পদ, অর্থনীতি, আইন-কানুন প্রভৃতি বিস্তারিত অনুসন্ধান ও গবেষণা
কাজ মানব ভূগোলের শাখা রাজনৈতিক ভূগোলের মধ্যে সম্পন্ন করে।
রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জনগণ। বর্তমান সময়ে জনসংখ্যার জনমিতিক উপাদান, অভিগমনের কারণ, ধরন, জন্মাহার, মৃত্যুহার, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির হার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে মানব ভূগোলের অন্য আরেকটি শাখা জনসংখ্যা ভূগোলের পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি।
মানুষ সামাজিক জীব। এরা একে অপরের সাথে বসবাস করে থাকে।
আর এজন্য তারা বসতি নির্মাণ করে থাকে। প্রাচীনকাল হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে আধুনিক গ্রামীণ ও নগর বসতির উদ্ভব হয়। সেসব বসতি কীভাবে হলো তা এ শাখায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন- বসতির ধরন, বিন্যাস, গ্রামীণ বসতি ও শহুরে বসতি, নগরায়ণের ধারা, অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে বসতির কী ধরনের সমস্যা হয় তার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান বসতি ভূগোল অধ্যয়নে জানতে পারি।
মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভিত্তি রচিত হয়। যে কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পশ্চাদভূমি, কোন অঞ্চলে কোন ধরনের বাণিজ্য রয়েছে আমরা অর্থনৈতিক ভূগোল পাঠে জানতে পারি।
পরিবহনের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে কিংবা একদেশ হতে অন্যদেশে যাতায়াত করে। একারণে কোন দেশের পথ কেমন প্রকৃতির তা মানব ভূগোলের অন্তর্গত পরিবহন ভূগোল অধ্যয়নে জানতে পারি।
সংস্কৃতি হচ্ছে মানবজীবনের দর্শন। অর্থাৎ মানুষের মনোভাব, বিশ্বাস,
বিচার ও মূল্যবোধ, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, নৈতিকতা, ভদ্রতা, শিষ্টাচার বিধি, ভাষা, ধর্ম, সাংস্কৃতিক অঞ্চল প্রভৃতি বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে সাংস্কৃতিক ভূগোল অধ্যয়ন করা অত্যাবশ্যক।
সুতরাং বলা যায় যে, মানবভূগোলর উল্লিখিত শাখাসমূহ যা অধ্যয়ন করার মাধ্যমে একজন মানুষ মানব জীবন পরিচালনা করার জন্য যতটুকু জ্ঞান প্রয়োজন তার বেশির ভাগ জ্ঞানই পেয়ে থাকে। তাই উক্ত শাখাসমূহের অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।