উদ্দীপকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কথা বলা হয়েছে। উক্ত দুটি দেশের মধ্যে যে বিষয়সমূহের পার্থক্য রয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করা
হলো-
জাপান এশিয়া মহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় একটি দ্বীপরাষ্ট্র। ছোট বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৩,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত। জাপান একটি যৌগিক আগ্নেয়গিরীয় দ্বীপমালা। জাপান ২৪° উত্তর অক্ষাংশ থেকে ৪৬° উত্তর অক্ষাংশ এবং ১২৮° পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ১৪৬° পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্য কোনো দেশের সঙ্গে জাপানের স্থলসীমান্ত নেই। জাপানের মোট আয়তন ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৩ বর্গকিলোমিটার যা বিশ্বের মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে ৬২ তম রাষ্ট্র। এখানে ১২,৬৭,৭৬,০৪৫ জন লোক বাস করে। জাপানের ভূপ্রকৃতি পর্বতময়। দেশটির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকাই পাহাড়ি। জাপানের হোকাইডো দ্বীপে গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শীতকাল দীর্ঘ এবং বরফময়। এখানে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পসহ অনেক ধরনের ইলেক্ট্রনিক শিল্প রয়েছে যা জাপানকে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছে।
অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়া দূর প্রাচ্য এশিয়ার একটি দেশ। এর তিনদিক জুড়েই সমুদ্র। এটি ৩২°২০′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ৩৮° উত্তর অক্ষরেখা এবং ১২৪° পূর্বদ্রাঘিমারেখা থেকে ১৩২০ পূর্বদ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। এদেশের মোট আয়তন ১,০০,০৩২ বর্গকিলোমিটার। দক্ষিণ কোরিয়ার ভূপ্রকৃতিকে পার্বত্য অঞ্চল, সমভূমি অঞ্চল ও পূর্ব উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এদেশের জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ২ লক্ষ। গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত নামক চারটি ঋতুসহ দক্ষিণ কোরিয়া নাতিশীতোষ্ণ সামুদ্রিক জলবায়ু উপভোগ করে।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত বিষয়গুলোতে জাপান দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।