উদ্দীপকের প্রথম লাইনে বলা হয়েছে যে, জীববৈচিত্র্য আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। এ উক্তিটি শতভাগ সঠিক, জীববৈচিত্র্য একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ বিষয় নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো:
জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে, জীববৈচিত্র্য পরিবেশের জড় ও জীব উপাদান দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে প্রাপ্ত দ্রব্যাদি মানুষের অর্থনীতিতে নানাভাবে ভূমিকা রাখছে। মানুষ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উৎস থেকে খাদ্য, বস্তু, ওষুধ, শিল্পজাত পণ্য, জ্বালানি, বাসস্থান তৈরির সরঞ্জাম ইত্যাদি সংগ্রহ করে থাকে। প্রায় সাত হাজার উদ্ভিদ প্রজাতিকে মানুষ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
মাটিতে যেসব বিশ্লেষক ব্যাকটেরিয়া এবং অণুজীব রয়েছে তারা উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচিয়ে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। আবার মাটিতে বসবাসকারী কিছু ব্যাকটেরিয়া ও নীলা সবুজ শৈবাল বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেনকে ধারণ করে জমির নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। মানবজাতির অর্থনীতির সাথে জড়িত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং শিল্পকারখানা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানাবিধ উদ্ভিদ ও প্রাণিজ উৎস তথা জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। যেমন- কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ, বনজ সম্পদ, রেশম চাষ, কুটিরশিল্প, মৌমাছি চাষ, শিল্পের কাঁচামাল, ওষুধপত্র, কৃত্রিম প্রজনন, জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, চিড়িয়াখানা স্থাপন ইত্যাদি নানাবিধ উপায়ে জীববৈচিত্র্য বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে।
তাই বলা যায়, আমাদের জন্য জীববৈচিত্র্য এক অমূল্য সম্পদ।