উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বনভূমিদ্বয়ের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বনভূমিদ্বয় হলো যথাক্রমে স্রোতজ বনভূমি এবং ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি। নিচে এ দুটি অঞ্চলের বনভূমির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য তুলে ধরা হলো। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাংশে সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত ও জোয়ার- ভাটাপূর্ণ, শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক নিবাসের উদ্ভিজ্জকে স্রোতজ বনভূমি বলে। এ বনভূমি সুন্দরবন নামেও পরিচিত। সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত। এ বনভূমির মোট আয়তন ৬,৭৮৬ বর্গ কি.মি.। উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। এটি খুলনা বিভাগের ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও পোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ। এ বনে সুন্দরী, গেওয়া, ধুন্দল, পশুর, কেওড়া, গোলপাতা, গড়ান প্রভৃতি বৃক্ষের সমারোহ দেখা যায়। অন্যদিকে, মধুপুর ও মধুপুর ও ভাওয়ালের ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলায় অবস্থিত। এ বনভূমি মোট আয়তন ৮৭৫ বর্গ কি.মি.। এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় অর্ধেকেরও বেশি। টাঙ্গাইল জেলায় বনভূমির পরিমাণ ৪৪০ বর্গ কি.মি., ময়মনসিংহ জেলায় ১৭৬ বর্গ কি.মি. এবং গাজীপুর জেলায় ২৫৯ বর্গ কি.মি. বনভূমি অবস্থিত। শীতকালে সাধারণত পরিমিত তাপ ও বৃষ্টিপাতের অভাবে এ জাতীয় গাছের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মকালে নতুন পাতা গজায়। এ বনভূমির বৃক্ষগুলো সাধারণত ১৫-২২ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে। এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ হলো শালজাতীয় গাছ। এছাড়া কড়ই, হিজল, বহেরা, হরিতকী, নিম, কাঁঠাল প্রভৃতি বৃক্ষ এখানে দেখা যায়। শাল প্রধান বৃক্ষ হওয়াতে এ বনভূমিকে আবার শালবন বা গজারি বৃক্ষের বনভূমি বলা হয়ে থাকে। এ বনভূমিতে বানর, শৃগাল, বনবিড়াল ইত্যাদি পাওয়া যায়।
HSC Geography 1st Paper Chapter 9 : জীবমণ্ডল CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 9 : জীবমণ্ডল · সৃজনশীল
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বনভূমিদ্বয়ের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Comilla · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর