'গ' বনভূমির বর্ণনা দাও।
উত্তর: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত ও জোয়ার ভাটাপূর্ণ, শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক (Physiologically dry) নিবাসের উদ্ভিজ্জকে স্রোতজ বনভূমি বলে। এ বনভূমি সুন্দরবন নামেও পরিচিত। উদ্দীপকের 'গ' এ বনভূমিকেই নির্দেশ করে। এ অঞ্চলে প্রতিবছর বর্ষাকালে নতুন পলি পড়ে। ফলে কিছু এলাকার লবণাক্ততা হ্রাস পায় এবং স্থান বিশেষে লবণাক্ততা কমবেশি হয়।' এ কারণে বিভিন্ন প্রকার গাছের বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। জৈব সারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ (সুন্দরি গেওয়া, গড়ান) জন্মে থাকে। প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য এখানকার গাছগুলোর কিছু অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, পরিমিত তাপমাত্রা, সমুদ্রের জোয়ারভাটা ও লবণাক্ত পানির প্রভাব স্রোতজ বনভূমি গড়ে ওঠার প্রধান কারণ। এ বনে বানর, হরিণ, গণ্ডার, নদীতে কুমির প্রভৃতি প্রাণী বাস করে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার এ বনের প্রধান প্রাণী।
HSC Geography 1st Paper Chapter 9 : জীবমণ্ডল CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Geography 1st Paper · Chapter 9 : জীবমণ্ডল · সৃজনশীল
'গ' বনভূমির বর্ণনা দাও।
উদ্দীপক

উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
এসব সবুজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে শাক্যশী প্রাণী এবং এসব প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে মাংসাশী প্রাণী। এভাবে উদ্ভিদ হতে প্রাণিদেহে শর্করা স্থানান্তরিত হয়। এসব শর্করা (C6H12O6) উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে। আবার কিছু সংখ্যক অণুজীব (ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া) উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহকে পচন ঘটিয়ে পচনশীল জৈব শ্বসন প্রক্রিয়ায় CO₂ গ্যাস তৈরি করে। এভাবে উৎপন্ন CO₂ পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। জলজ প্রাণী যেমন- শামুক, ঝিনুক ইত্যাদির খোলক কার্বনেট দিয়ে গঠিত। উক্ত প্রাণীদের মৃত্যুর পর নানা প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং পানিতে মিশে যায়। ফলে CO₂ জ্বালানিরূপে দহন ক্রিয়ায় CO₂ গ্যাসরূপে পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়।
সুতরাং বায়ুমূণ্ডল থেকে জীবদেহে, এবং জীবদেহ থেকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন CO₂ গ্যাসরূপে চক্রাকারে আবর্তন ঘটে। এ আবর্তনই কার্বন চক্র। কার্বন ছাড়া কোনো জৈব পদার্থ তৈরি হতে পারে না। সুতরাং কার্বন ছাড়া জীবন সম্ভব নয়। তাই দেখা যাচ্ছে, উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য কার্বন চক্রের ওপর নির্ভরশীল।