চিত্রে প্রদর্শিত 'ক' ও 'খ' অঞ্চল যথাক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সুন্দরবন। অঞ্চল দুটির বনভূমির পরিবেশগত পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো- পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল বেলেপাথর ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এখানে ৩৪০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৩০০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ যেমন: গর্জন, মেহগনি ইত্যাদি এবং কম বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে পতনশীল পত্রযুক্ত যেমন: সেগুন, অর্জুন, গামারি ইত্যাদি বৃক্ষের বনভূমি পরিলক্ষিত হয়। এই অঞ্চলের মাটিতে হিউমাস-এর পরিমাণ অধিক থাকে।
অপরদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত ও জোয়ার ভাটাপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক (Physiologically dry) নিবাসের উদ্ভিজ্জকে স্রোতজ বনভূমি বলে। এটি সুন্দরবন নামে পরিচিত। এ বনভূমিতে সমুদ্রের জোয়ার ভাটা ও লবণাক্ত পানির প্রভাব, পরিমিত তাপমাত্রা, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত (২০০-৩০০ সেন্টিমিটার) পরিলক্ষিত হয়। সুন্দরবনে সুন্দরী, গরান, ধুন্দল, গেওয়া, গোলপাতা, কেওড়া ইত্যাদি বৃক্ষ জন্মে।